ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে এ বিভেদ নেতা-কর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ বিভেদ হলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
দলের এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা কোনোভাবেই নতুন কমিটিকে মেনে নিতে পারছেন না। সভাপতি পদে কোনো প্রার্থী না থাকায় কোনো রকমের বিভেদ নেই এই পদটিকে ঘিরে। তবে আকস্মিক একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে কোনো রকমের আলোচনা ছাড়াই সাধারণ স¤পাদক ঘোষণা করায় উপজেলা যুবদলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীদের মাঝে একটি চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে যুবদলের নেতাকর্মীরা।
নতুন কমিটির ব্যপারে উপজেলা যুবদলের একাধিক সিনিয়র নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এরকম একটি কমিটি ঘোষণা করবেন আমরা ভাবতেই পারি নি। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যেসব নেতারা লড়াই করেছেন, এখনো সরকারের দেওয়া মামলা নিয়ে ঘুরছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে যেসব নেতারা যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন, অত্যাচার ভোগ করেছেন, দীর্ঘদিন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেসব নেতাকে রেখে হঠাৎ তিনি আবুল হাসনাত নামের একজনকে সাধারণ স¤পাদক ঘোষণা করায় আমরা সত্যিই অবাক হয়েছি। এই কমিটির সমালোচক বা বিরোধী পক্ষের লোকেরা মনগড়া কমিটি ছাড়া অন্য কিছুই ভাববেন না। তবে এসব কথা স¤পূর্ণ মিথ্যা বলছেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন।
দলীয় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মী ও জেলা যুবদলের আহ্বায়কের বক্তব্য বিপরীতমুখী হওয়ায় দ্বন্দ্ব বা বিভক্তির সুর আরো ¯পষ্ট। দীর্ঘদিন পরে পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক পদে নাম ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তীতে সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদকই বাকী ১০১ সদস্য কমিটির নাম ঘোষণা করবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। সভাপতি পদে উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. সোহেল মিয়ার সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় কথা আসে নি এ পদ নিয়ে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এপদে নির্বাচিত হন তিনি। তবে সাধারণ স¤পাদক পদে একাধিক নেতা পদপ্রত্যাশী হওয়ায় ধূম্রজাল সৃষ্টি হয় এ পদটিকে ঘিরে।
এব্যপারে উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল পারভেজ সাজন বলেন,‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি এমন কমিটি দেখে। যেখানে মাঠের নেতা-কর্মীরা আমাকে সাধারণ স¤পাদক চায় সেখানে আমাকে বঞ্চিত করা হলো। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছি, মামলা খেয়েছি, ঘর ছেড়ে বাইরে দিন কাটিয়েছি, মিছিল মিটিং করেছি আমার নেতৃেেত্ব অথচ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাকে বঞ্চিত করা হলো। এ কমিটি আমি মানি না। জেলার নেতাদের কাছে অনুরোধ করছি, দলীয় স্বার্থে কমিটি বাতিল করে যেনো নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য।
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ বলেন,‘আমাদের আপত্তির বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলার সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাঁরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বশীল নেতাকেই দায়িত্ব দেবেন। আমরা তাঁদের উপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। তবে আমি চাই বর্তমান এ কমিটির বাতিল করে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হোক।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন বলেন,‘যুবদল একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে শত শত নেতা-কর্মী। সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ করে উপজেলা থেকে যোগ্যদের বাছাই করে কমিটির দুটি পদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বের ন্যায় দলের স্বার্থে পূর্বাঞ্চল থেকে সভাপতি ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে সাধারণ স¤পাদক দেওয়া হয়েছে। ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীদের অবশ্যই স্থান দেওয়া হবে। আশা করি কেউ দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সিনিয়র নেতৃত্বের অবমাননা করবেন না।