ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঢামাঢোল বাজতে শুরু করেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রথম দফাতেই হতে পারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরাও নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থনা করছেন। তবে প্রচারণায় খুব বেশি চোখে পড়ছে না জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থীদের। উপজেলার পশ্চিম থেকে পূর্ব কিংবা উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকের ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান পদে প্রচারণায় থাকা প্রার্থীদের অধিকাংশই সরকার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও স্বতন্ত্র। চোখে পড়ার মতো বিএনপির কোনো প্রার্থীর প্রচারণা এখনো লক্ষ করা যায়নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, গত নির্বাচনে দরগাপাশা ইউনিয়নের পরাজিত প্রার্থী ছুফি মিয়া এবং একই ইউনিয়নের আরেক বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিফজুর রহমান চৌধুরী দিদার দলীয় প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কিছুটা প্রকাশ্য আলোচনায় আছেন। অন্যান্য ইউনিয়নে যারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা হচ্ছে তারা এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ আছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র জেষ্ঠ্য একজন রাজনীতিবিদ জানান, একটা সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ছিলো বিএনপির ঘাঁটি। জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ সভাপতি আনছার উদ্দিন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি (বহিষ্কৃত) ফারুক আহমদের বাড়ি এই উপজেলার পাগলায়। তাঁদের দুজনের মতভেদ থাকলেও দলের প্রশ্নে সম্প্রীতি ছিলো। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের আদেশ অমান্য করে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরেও বহিষ্কার হন ফারুক আহমদ। এরপর থেকেই তাঁর অংশের রাজনীতির মাঝে ব্যাপক ছন্দ পতন হয়।
এদিকে যুবদলের কেন্দ্রিয় কমিটিতে স্থান পাওয়ায় আনছার উদ্দিনকে বেশিরভাগ ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় জেলার বাইরে রাজধানী ঢাকায়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যস্ততার কারণে স্থানীয় বিএনপির দিকে নজর দিতে পারছেন না তিনি। ফারুক আহমদের দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকা, আর আনছার উদ্দিনের ব্যস্ততার কারণে উপজেলা বিএনপিতে একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থার তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের সাথে লড়াই-ই বা করবেন কারা এখনো তার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি স্থানীয় বিএনপি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন কামরান ও ছাত্রদল নেতা মানছুর আহমদ বলেন, এখনো বিএনপি বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী দল। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থীই জয়ী হবেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাদেরকে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য মনোনোয়ন দেওয়া হবে, তারা যেনো অবশ্যই সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি হন।
সুনামগঞ্জ সদর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি সৈয়দ আহমদ বলেন, বিএনপির তেমন কোনো প্রচারণাই এখনো চোখে পড়ছে না। কিছু কিছু নাম শুনছি, তা শুধু ফেসবুকেই। আমরাও তাকে ভালো করে চিনি না। শুধু ফেসবুকে প্রচারণা চালালে হবে? আসতে হবে ভোটারদের দুয়ারে। যাদের কোনো ইমেজ নেই তারা যদি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তাহলে ধানের শীষের ভরাডুবি হবে।
পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ আমিন বলেন, প্রার্থীরা মাঠেই আছে। শিমুলবাঁক, পশ্চিম বীরগাঁও, জয়কলসসহ ৬টি ইউনিয়নের ধানের শীষ প্রত্যাশী প্রার্থীরা আমার সাথে যোগাযোগ করছেন। তারা মাঠে কাজ করছেন। এখনো নির্বাচনের অনেক সময় আছে। সাধারণ মানুষ গ্রহণ করবেন না এমন কোনো ব্যক্তিকে যেনো দলীয় প্রার্থী না করা হয় সে ব্যাপারে আমাদের অনুরোধ থাকবে। অযোগ্যদের মনোনোয়ন দিলে ফল ভালো আসবে না।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিন বলেন, বিএনপি এখনো শক্ত ও গোছালো একটি রাজনৈতিক সংগঠন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত। ধানের শীষে মনোনোয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা এক ধরনের ভয় থেকেই এখনও প্রচারণায় যাচ্ছেন না। কারণ কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে তার নির্বাচনী কাজ করলেই সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা শুরু করে। যেহেতু নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকী আছে সেহেতু আমাদের প্রার্থীতার ব্যাপারে কোনো ত্রুটি রাখা হবে না। যে কেউই প্রচারণা বা মনোনোয়ন চাইতে পারেন। এটা তার রাজনৈতিক অধিকার। আমরা যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনোয়ন দেবো। আশা করছি ভালো ফলাফল আসবে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বিগত ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী ৮ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবার ১৮০ দিন শুরু হয়েছে গেল বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে। এই বছরের ২২ এপ্রিল শেষ হবে এই ইউনিয়নগুলোর মেয়াদ।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বললেন, বিধি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হবার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর। সেই অনুযায়ি ২০২১ সালে এই ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন হবার কথা।