দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পুর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওরের ৩২ নং পিআইসির ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগটি দায়ের করেছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউপির বাসিন্দা ও বীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছালেক উদ্দিন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খাই হাওর বেড়িবাধ এলাকায় পূর্ব বীরগাঁও, জয়কলস, দরগাপাশা ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বোরো জমি অবস্থিত। উক্ত বাঁধের যেকোনো জায়গায় ভাঙ্গন ধরে হাওরে পানি প্রবেশ করলে উল্লেখিত এলাকার বোরো জমি তলিয়ে যাবে এই বাঁধের মধ্যেই রাঙ্গামাটির ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি অবস্থিত। উক্ত বাঁধটির দক্ষিণ দিকে লাউয়া নদী উত্তরে জলাশয় এবং উভয় পাশেই অনেক গভীর জায়গা বিদ্যমান। এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পিআইসির সভাপতি/
সম্পাদক মিলে বাঁধের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দ্যেশ্যে বাঁধটির পুরাতন স্লোপ এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে কেটে নতুন বাঁধ নির্মাণ করছেন যার ফলে অতিবৃষ্টি বা সামান্য পানি আসলেই বাঁধটি ভেঙ্গে সাধারণ কৃষকের জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বাঁধের একদম কাছ থেকেই এক্সেভেটর দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪ শত টাকার মাটির কাজ করানো হয়। বর্তমানে বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য কোনো শ্রমিক বাঁধে নিয়োজিত নেই। ইউপি চেয়ারম্যানের আপন চাচাতো ভাই ও মামাকে কাগজে কলমে প্রকল্পের সভাপতি/সম্পাদক করলেও এখনো কেউ তাদেরকে বাঁধে দেখতে পায়নি। ফলে বাঁধের জন্য সরকারের দেয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকার বরাদ্দে নামমাত্র মাটি কেটে টাকা আত্মসাতের পায়তারা চলছে।
এব্যাপারে ৩২ নং পিআইসির সভাপতি শয়েদ নুর বলেন, আমার বাঁধের কাজ শেষ, এখন শুধু দুর্বা লাগানোর কাজ রয়েছে।
এব্যাপারে পূর্ব বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নুর কালাম বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম নেই। বাঁধের ৮০% কাজ শেষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, আমি কাজ পরিদর্শন করে এসেছি। আগামীকাল পর্যন্ত পিআইসিকে সময় দেওয়া হয়েছে। যদি আগামীকালের মধ্যে বাঁধের কাজে ত্রুটি থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।