- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দরজা লাগিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিতেন ইউপি সচিব

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
কোনো রকমে নিজের নাম স্বাক্ষর করতে জানেন এক নারী ইউপি সদস্য। ভাল করে লিখতে পড়তে পারেন না। ফলে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্পের যৌথ একাউন্টের চেক বইয়েও কিছু না বুঝে স্বাক্ষর করেছেন। আবার স্বাক্ষর করতে না চাইলে অসদাচরণ করে দরজা আটকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিতেন ইউপি সচিব। কৌশলে চেক বই ইউপি সচিব তাঁর কাছে রেখে দিতেন। পরে সচিব যৌথ একাউন্ট থেকে চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে কৌশলে সেইসব প্রকল্পের সেই টাকা উত্তোলন করতেন। কিন্তু ইউপি সদস্য সে ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। অথচ ইউপি সদস্য বাকিতে প্রকল্পের সমূদয় মালামাল সংগ্রহ করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতেন। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তেন ইউপি সদস্য খুদেজা বেগম। যিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার চামরদানি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য। গত মঙ্গলবার দুপুরে খুদেজা বেগম সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল হালিম ও সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে এলজিএসপি- ৩ প্রকল্পের আওতায় ১নং ওয়ার্ডের চামরদানি গ্রামে চারটি নলকুপ স্থাপনের জন্য দুই লাখ টাকা ও একই ওয়ার্ডে সেনিটেশন সামগ্রী বিতরণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পের কাজের জন্য খুদেজা বেগম মধ্যনগর বাজার থেকে বাকিতে মালামাল সংগ্রহ করে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন। এদিকে প্রকল্পের কাজ শুরু হলে সচিব ও চেয়ারম্যান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চেক বই কৌশলে নিজেদের দখলে রেখে দেয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে খুদেজা বেগম চেক বই ফেরত চাইলে সচিব ও চেয়ারম্যান খুদেজাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং সচিব ও চেয়ারম্যান প্রকল্পের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে বলে ধারণা করছেন খুদেজা। এদিকে প্রকেল্পর টাকা না পেয়ে পাওনাদারদের টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারছেন না খুদেজা।
খুদেজা বেগম বলেন, ‘অক্ষর জ্ঞান না থাকায় খালি চেকে ইউপি সচিব চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে দরজা লাগিয়ে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিতো। স্বাক্ষর না দিলে আমার সাথে অসদচারণ করতো। তাই চেক বই উদ্বারসহ তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য দাবি জানাই।’
সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমেদ ও ইউপি সচিব আব্দুল হালিম তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • [১]