পুলক রাজ
শুরুটা ছিল একেবারেই শূন্য থেকে। পৌর এলাকার অনেক নারীই তাঁর কাছ থেকে সেলাই’র প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন। সেলাই মেশিন বা সুঁচ আর সুতোয় নিপুণ হাতে প্রতিনিয়ত তৈরি করছেন বাহারি পোশাক। এমনই একজন নারী পৌর শহরের কালীপুর এলাকার হেলেনা আক্তার। সেলাইয়ের কাজ করে গরিব বাবার সংসারের হাল ধরেছেন। দুই বোনকেও সেলাই শিখিয়েছেন। কাজের পাশাপাশি এখন তিনি সেলাই প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন। ভাল কাজ করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।
পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে বড় হেলেনা আক্তার। তার বাবার নাম মুজিবুর রহমান। ঠেলাগাড়ি চালিয়ে ও কৃষি কাজ করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন তিনি। পড়াশুনা করিয়েছেন। সাংসারিক কষ্ট থেকে বাঁচতে সংসারের এই অবস্থায় নিজেকে কিছু একটা করতে হবে ভেবেই হেলেনা শুরু করলেন সেলাইয়ের কাজ। প্রথমে মায়ের সাথে এলাকার নারী, শিশুদের পোশাক সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। মায়ের কাছ থেকে ছোট দুই বোনও কাপড় সেলাইর কাজ শিখেছেন। গত ২ বছর ধরে সফলতার সাথে ছোট দুই বোন দোলনা আক্তার ও ময়না আক্তার কে নিয়ে লিজা লেডিস টেইলার্স গড়ে তুলেন। বর্তমানে টেইলার্সে আরো দুইজন সহযোগি রয়েছে। সংসার চালানো থেকে শুরু করে ভাই বোনদের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করেন তার এই আয় থেকে। কাপড় সেলাই’র কাজের পাশাপাশি সংসারের সমস্ত কাজ করেন তিনি। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতেই তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন।
হেলেনা আক্তার বলেন, মায়ের কাছ থেকে কাপড় সেলাই শিখেছি। ছোট বেলা থেকেই দেখছি আমার মা হেলেনা বেগম সারাদিনের সংসারের কাজের পাশাপাশি রাতে কাপড় সেলাই করতেন। যখন আমার বয়স ১০ বছর ছিলো, তখন থেকেই আমি আমার মাকে কাপড় সেলাইয়ে সহযোগিতা করেছি। কাপড় সেলাইর কাজ করতে আমার ভালো লাগে। দারিদ্র ও অভাব অনটন থেকে বাঁচার জন্য প্রথমে এলাকার নারী, শিশুদের পোশাক সেলাইয়ের কাজ শুরু করি। কিন্তু পুঁজির অভাবে তাতেও বাধার সৃষ্টি হয়। কিন্তু দৃঢ় মনোবল ও পরিবারের সমর্থনে সেই বাধা জয় করেছি। দুঃসময়ে আমার চলার পথের সঙ্গী ছিল এই সেলাই’র কাজ। আজ আমি সফল। বর্তমানে সংসার খরচসহ ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালাতে পারি। বললেন, আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। নারীরা একটু সাহসী, একটু সুযোগ পেলে সফল হতে পারে। এই আত্মবিশ্বাস আমি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।
হেলেনা বেগমের ছোট বোন দোলনা আক্তার ময়না বলেন, আমার বড় বোন অনেক কষ্ট করে একটা লেডিস টেইলার্স গড়েছেন। লেডিস টেইলার্সের নাম দিয়েছেন আমাদের সবার ছোট বোন লিজা আক্তারের নামে ‘লিজা লেডিস টেইলার্স’। পৌর শহরের হাছন নগরে আমাদের বড় বোন কাপড় সেলাই’র ব্যবসা দেওয়ার পর আমি নিজেও লিজা লেডিস টেইলার্স এ কাপড় সেলাই করি। দোকান থেকে আমার পরিশ্রমের টাকা নেই এবং আমার কলেজের পড়াশুনার খরচ চালাই। আমি এখন আর আমার বাবার কাছ থেকে কোন টাকা নেই না।
হেলেনা বেগমের বাবা মুজিবুর রহমান বলেন, আমার মেয়েরা কাজ করছে, সংসার চালাচ্ছে দেখে আমার খুব আনন্দ হয়। আমার মেয়েরা পুরুষের মত সংসার চালাচ্ছে।