- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দর্শনীয় স্থান গৌরারং জমিদার বাড়ি- হারানো ইতিহাস খুঁজছে ‘উড়ন্ত’

স্টাফ রিপোর্টার
শহরতলির গৌরারং জমিদার বাড়ি এখন পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হয়ে ওঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটায় সুনামগঞ্জ শহর থেকে কম সময়ে ওখানে পৌঁছা যায়। দর্শনীয় পুরোনো এই বাড়িটিকে ঘিরে শিল্পীদের আগ্রহ বেড়েছে। শিল্পকর্মীদের সংগঠন ‘উড়ন্ত’ এবার সুনামগঞ্জের গৌরারং জমিদার বাড়ি এবং ধর্মপাশার সুখাইড়ের জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস এবং এই সম্পদগুলোর সঙ্গে পুনরায় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর আব্দুজ জহুর সেতু পার হয়ে হাতের বাম দিকে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের ৩ কিলোমিটার যেতেই ২শ বছরের পুরনো এই জমিদার বাড়ি । সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হতে পারে। ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা বন্ধ হওয়ার পর এখন তা  কেবলই অতীত। বর্তমানে জমিদার বাড়ির একাংশের ক্রয় সূত্রে মালিক নেপাল চক্রবর্তীর ছেলে বিজিত চক্রবর্তী।     
১৮০০ সালের শুরুর দিকে জমিদার রাজেন্দ্র কুমার চৌধুরী ও রাকেশ রঞ্জন চৌধুরী গৌরারং জমিদারি পত্তন করেন। এরপর সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে নগেন্দ্র কুমার চৌধুরীর হাত ধরে জমিদারী বিস্তৃতি লাভ করে । তাঁর পুত্র নিরঞ্জন চৌধুরী। কয়েক বছর আগে তিনিও মারা গেছেন। নিরঞ্জন চৌধুরীর পরিবারের মধ্যে  ছেলে অঞ্জন চৌধুরী বর্তমানে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত।
২ শ’ বছরের পুরনো হলেও গৌরারং জমিদার বাড়ির শিল্পসম্মত স্থাপত্যশৈলীতে রয়েছে ৬ টি আলাদা ভবন , রংমহলের দেওয়ালে নর-নারী ও লতাপাতার ছবি, অন্দর মহল, সিংহাসন, জলসা ঘর ইত্যাদি আজও পরিদর্শন করতে আসা মানুষকে আকৃষ্ট করে ।
বাড়ির অধিকাংশ দালানের গায়ে শ্যাওলা জমে নষ্ট হয়ে গেছে, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। রাজবাড়ির মূল ভবনের ভিতরে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।
রংমহলের সম্মুখভাগে রয়েছে বিশাল আকৃতির ত্রকটি পুকুর, মূলভবনের ডান পাশে রয়েছে আরো একটি দীঘি  যেখানে জমিদার বাড়ির নারীরা গোসল করতেন। যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয় জল বারান্দা। পুকুর পাড়ের জমিদারী ঘাট আজও অক্ষুন্ন রয়েই গেছে। বাড়িঘেরা অসংখ্য ছোট বড় গাছগাছালি পুরাতন এই বাড়িটিকে যেন আগলে রেখেছে।
গত ২৮ আগস্ট থেকে এই বাড়ির হারানো ইতিহাস খোঁজার কাজ করছে ‘উড়ন্ত’ আর্টিস্ট কমিউনিটি। এই সংগঠনে ভারতের ৫ জন শিল্পী কাজ করছেন। এরা হলেন অনুপম সাইকীয়া, ভানু প্রতাপ, জিনসন জোসেফ, লালিত পাটল ও ঋত্বিক কর। বাংলাদেশী শিল্পী রয়েছেন ৬ জন। এরা হলেন- আসিফ কাদের সিদ্দিক, শামছুল কবির সিনিন, আনন্দ আহসান, শাহরিয়ার খান শিহাব, শামস জামান ও তারেক হাসান।
উড়ন্ত’র কিওরেটর সাদিয়া মিজান বললেন, আগামী ৫ ও ৬ অক্টোবর শিল্পীদের কাজ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শিল্পকলা একাডেমীতে প্রদর্শনীর আয়োজন হবে। এখানে নান্দনিক কিছু উপস্থাপনা এবং নতুন ধরনের শিল্পকর্ম থাকবে।

  • [১]