সোহানুর রহমান সোহান
সাদা-কালো রঙের সুঠাম দেহের অধিকারী আলীরাজ। ঘর থেকে বের হলেই চঞ্চলতা বেড়ে যায়। গাভীর ছোট বাচ্চাদের মতো মনের আনন্দে লাফাতে থাকে। তার এই লাফানো দেখে বোঝার উপায় নেই প্রায় ১ হাজার কেজি বা ২৫ মণ ওজনের বিশাল দেহের ষাঁড় এটি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের খামারি গোলাম আজমের আবিব এগ্রো ফার্মের হলোস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী থেকে ৪ বছর আগে জন্ম হয় আলী রাজের। জন্মের পর থেকে গরুটি এই ফার্মে আছে। গ্রামের নাম আর বেশি আদরের গরু হওয়ায় আলীরাজ নাম রাখা হয়েছে। বাড়ির শিশুদের সাথে খেলা করে করে প্রাকৃতিক ভাবে বড় হয়েছে আলীরাজ। দুষ্টামি, লাফালাফি করলেও মানুষের সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ গরুটির। তার সমবয়সী শিশুরাই এখন তাকে রোজ আদর যতœ করে খাওয়ায়।
গরুর মালিকের ছেলে শিশু তৌহিদুল ইসলাম সাথে কথা হলে সে জানায় সে আর গরুটি একসাথে বড় হয়েছে। তবে গরু আর তার বয়স সমান হলেও তার থেকে গরুটি অনেক বড় হয়ে গেছে। প্রত্যেকদিন এ গরুকে ঘাস, খড় সহ অন্যান্য খাবার খাওয়ায়। সারাদিন গরুর সাথে সময় কাটে তার।
অন্যান্য বিশাল ষাড় গরুদের ওজন বেশি হলে নড়তে-চড়তে অনেক কষ্ট হলেও সম্পূর্ণ ঘরোয়া ভাবে বড় হওয়ায় আলীরাজ স্বাভাবিকভাবেই চলা ফেরা করে। মায়ের সাথে দেশি গরুর মতো লালন পালন হওয়ায় চঞ্চলতা একটু বেশি দেখায় সে। বেশি চঞ্চল স্বভাবের হওয়ায় তাকে সামলাতে দু-তিন জন মানুষ লাগে। গোয়ালের অন্যান্য গরুদের সাথেই থাকে, লাগে না আলাদা কোন কক্ষ বা বাড়তি কোন যতœ। খামারি আকরামের নিজের জায়গায় উৎপাদন করা ঘাস, ভূষি, খৈল ও চাউলের গুড়া গরুটির খাবার। নিজের বাচ্চার মতো যতœ করে বড় করা আলীরাজ উচ্চতায় ৫ ফুট এবং লম্বায় ৮ ফুট। গরুটির সৌন্দর্য ও বিশালতার ফলে টানা তিন বার প্রাণী প্রদর্শনী মেলায় প্রথম স্থানের পুরস্কার পেয়েছে বলে দাবি মালিকের। গরুর মালিক আজম এবারের ঈদুল আজহায় ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে চান আলীরাজকে। গরুটি দেখতে তার বাড়িতে আসছেন মানুষজন। এমন গরু গ্রামে থাকাও সুনামের বিষয় বলে জানান গ্রামের মানুষ।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আফতাব আলী বলেন, আমার চোখের সামনেই গরুটি ছোট থেকে বড় হয়েছে। অনেক পরিশ্রম করে আলীরাজকে বড় করেছে তার মালিক। এমন গরু আমাদের উপজেলায় আর নেই। বড় গরু পালনে খামারিদের উৎসাহিত করতে নায্য মূল্য দিয়ে বিত্তবানদের গরুটিকে ক্রয় করার আহবান জানাচ্ছি।
মনির হোসেন বলেন, আমার বাড়ি ফার্মের পাশেই। ৪ বছর আগে আমার হাতে এই বাছুরটির জন্ম হয়। তারপর ধীরে ধীরে আজ এতো বড় হয়েছে। মায়ার টানে প্রত্যেক দিন এসে দেখে যাই। তাকে খাওয়াই, খাওয়াতে ভালো লাগে।
পৌর শহরের বড়পাড়া থেকে গরু দেখতে আসা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, বিশাল দেহের গরুর খবর শুনে আলী রাজকে দেখতে এসেছি। যেখানে বড় গরুর খবর শুনি আমি ছুটে যাই। আমি গরু প্রিয় মানুষ। এই গরুকে দেখেও অনেক ভালো লাগেছে। অনেক বড় গরু এটা।
আবিব এগ্রো ফার্মে আলীরাজ ছাড়াও ৯ টি গরু, ৫ কেয়ার আয়তনের ২টি পুকুর ও হাঁসের খামার আছে আছে। আবিব এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী গোলাম আজম বলেন, নিজের হাতে উৎপাদনকৃত ঘাস, গুড়া, খৈল, কলা সহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুকে বড় করেছি। এবার ঈদ আসছে, ৭ লক্ষ টাকায় এবারের ঈদে বিক্রি করতে চাই আলীরাজকে। বাড়িতে এসে নিলে কিছুটা ছাড় দেয়া হবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আ.জ.ম সালাহ উদ্দীন বলেন, আলীপুরের গরুটি সম্পূর্ণ দেশীয় ভাবে বড় করা হয়েছে। এর ওজন এক হাজার কেজির কাছাকাছি হবে। গরুটি সার্বক্ষণিক আমাদের তত্বাবধানে ছিল। গরু মোটাতাজা করণের জন্য কোন ঔষধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। এরকম আরও কয়েকটি গরু আছে উপজেলায়।