স্টাফ রিপোর্টার
প্রয়াত সংগীতশিল্পী দিগ্বিজয় শর্মা চৌধুরী শিবু’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ভার্চুয়াল স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সুনামগঞ্জ স্পন্দন পরিবারের আয়োজনে ‘স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংস্থা ও শিশু সংগঠন’ এর ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি লাইভ প্রচার করা হবে। এছাড়াও দিগ্বিজয় শর্মা চৌধুরী শিবু এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতার ফলাফল ও বিজয়ীদের গানও প্রচারিত হবে।
দ্বিগিজয় শর্মা চৌধুরী ১৯৫৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মল্লিকপুর এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম দেবব্রত শর্মা চৌধুরী ও মাতার নাম শ্যামলা চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই তিনি সুর এবং সঙ্গীতের আপার মিশ্রণের বৈভব লাভ করতে থাকেন পরিবার থেকেই। সংগীতের দীক্ষা লাভ করেন গোপাল দত্ত এবং রামকানাই দাসের মতো সঙ্গীত পন্ডিতের কাছ থেকে।
১৯৭২ সালে তিনি শহরের বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৪ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং ১৯৮৪ সালে সিলেট আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে অ্যাডভোকেট হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন। এরপর ১৯৮৫ সালের ২৭ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন।
তিনি একাধারে মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন। এছাড়াও নোটারী পাবলিক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সহ দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও জনসেবামূলক কাজে জড়িত ছিলেন।
১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার শিল্পী, বাংলাদেশ টেলিভিশনে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সত্তর থেকে আশির দশকে তুমুল জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী হয়ে উঠেন তিনি। সকল বয়সের সঙ্গীত প্রেমির কাছেই সমান সমাদৃত ছিলেন। পরিবার আর শহরের মানুষ তাকে আদর করে শিবু বলেই ডাকতেন। সঙ্গীতের খ্যাতির জন্য ডাক আসতে থাকে দেশ বিদেশের নানা জায়গা থেকে। ১৯৯৩ সালের দিকে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য লন্ডন থেকে ডাক আসে। পরবর্তীতে তিনি সেখানে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেছিলেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে মুক্তিকামী মানুষের কানে উনি পৌঁছে দিয়েছেন অসংখ্য জাগরণী গান। যা যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও ছিলো সঞ্জিবনী সুধার মতো।
২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সম্মাননা লাভ করেন দিগ্বিজয় শর্মা চৌধুরী। স্ত্রী আলপনা পুরকায়স্থ এবং দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরের বাবার ভিটাতেই বসবাস করতেন।
২০০৯ সালের দিকে ডায়াবেটিস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উনার দৃষ্টিশক্তি হারান এবং পরবর্তীতে অসুস্থতা তাকে আরও দুর্বল করে তোলে। কিন্তু মানসিকভাবে তিনি ছিলেন দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি সংস্কৃতির চর্চা থেকে সরে দাঁড়াননি। সুনামগঞ্জের মঞ্চে নিয়মিত করেছেন সঙ্গীত চর্চা এবং সুনামগঞ্জ জেলার একজন বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে উনার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন শেষ দিন পর্যন্ত।