বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে দিনভর ভোগান্তি শেষে সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিকালে প্রশাসন এবং পরিবহন মালিক শ্রমিকদের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। শুক্রবার সকাল থেকে হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘটের ভোগান্তিতে পড়েছিলেন জেলার লাখো মানুষ।
বৃহস্পতিবার বিকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকার সড়ক থেকে শ্যামলী, মামুন ও সাকিল পরিবহনের তিনটি আন্তঃজেলা বাস অবৈধ পার্কিং’এর দায়ে পুলিশ আটকে রাখে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কেবল আন্তঃজেলা বাসের শ্রমিকরা কর্মবিরতির ডাক দেওয়ায় রাতে আন্তঃজেলা কোন বাস ছেড়ে যায় নি। শুক্রবার ভোর থেকে ধর্মঘট আরও কঠোর হয়। সড়কের স্থানে স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা অবস্থান নেয়। আন্তঃজেলা বাস, আঞ্চলিক বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি কিছুই চলছে না সকাল থেকে। জরুরি প্রয়োজনে ভোর থেকেই আসা বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এবং মল্লিকপুরের নতুন বাসস্টেশনে এসে চরম বেকায়দায় পড়েছিলেন। বাসের কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরছেন যাত্রীরা।
শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ আবুল হাসান লিপন বললেন, বিএড পরীক্ষা দেবার জন্য সিলেটে যেতে ভোর ছয়টায় পুরাতন বাসস্টেশনে এসেছি। এসে শুনি বাস ছাড়বে না। পরে নতুন বাসস্টেশনে আসি লোকাল বাস বা বিরতিহীনে যেতে পারি কি না। এখানে এসে দেখলাম আরও কঠোর পরিবহন ধর্মঘট। এই অবস্থায় ভাবতেই পারছি না পরীক্ষার কী হবে।
জামালগঞ্জের উজান রামনগরের তাহমিনা আক্তারের বোনের ছেলের সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙেছে। আজ শুক্রবার বিকালে অস্ত্রোপাচার হবে ছেলেটির। তাহমিনা খরচের টাকা এবং ছেলেটির অপারেশনের সময়ে ওখানে উপস্থিত থাকার জন্য ভোরেই বাড়ী থেকে রওয়ানা দিয়েছেন। বললেন, ছেলেটির মা ছাড়া ওখানে কেউ নেই। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। টাকা না হয় বিকাশে পাঠিয়ে দিলাম। আমরা যাব কীভাবে। অনেক অনুনোয় বিনয় করেছি, একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে যাবার অনুমতি দেবার জন্য তাদেরকে বলেছি, তারা (পরিবহন শ্রমিকরা) ছাড়েন নি।
হবিগঞ্জের বানিয়াচঙের সেলিম মিয়ার রাজধানী ঢাকা থেকে মালেয়েসিয়ায় ফ্লাইট শনিবার সকালে। বাড়ী থেকে বিদায় নিয়ে সুনামগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়ী এসেছিলেন বৃহস্পতিবার বিকালে। শুক্রবার ভোরেই তিনি ঢাকায় যাবার জন্য রওয়ানা দিয়েছেন। স্টেশনে এসে জানলেন, পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকদের অনুনোয়-বিনয়সহ নানাভাবে অনুরোধ করছেন। আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ফোন করিয়েছেন, তবুও মন গলেনি ধর্মঘটীদের।
বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পবিহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশ সুপার এহসান শাহ্সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন, লেগুনা মালিক সমিতির সম্পাদক তাজিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় বলেছেন, আগামী রোববার বা সোমবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বসে বাস টার্মিনালের পাশের সরকারি পুকুর ভরাট করে টার্মিনাল বর্ধিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আটক বাস ছেড়ে দেওয়াসহ অন্যান্য দাবি দাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আশ^াস পাওয়ায় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার এহসান শাহ্ বললেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের বৈঠকে আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যাতে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। অন্যদের অসুবিধা হয় এমনভাবে সড়কে গাড়ি পার্কিং করে না রাখারও আশ^াস দিয়েছেন তারা। আমাদের পক্ষ থেকে টার্মিনাল বর্ধিত করার বিষয়ে আশ^াস দেওয়া হয়।