দিরাই সংবাদদাতা
গেল তিনদিন পানি কিছুটা কমলেও সোমবার থেকে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অল্প পরিমাণে পানি বাড়তে শুরু করছে। নদীতে পানি বাড়ায় কৃষকদের মনে আবারও ভয় ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধানে দেখা দিয়েছে ধানে চিটা হওয়া ব্লাস্ট রোগ। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।
দিরাইয়ের বিভিন্ন হাওরে আগামজাতের ধান কিছু পেকে গেলেও এই ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে ধান পাকার সময় এলে ধানে চিটা হয়ে পুরো ক্ষেত সাদা হয়ে যায়। ধানের ভিতরে কোন চাল থাকে না।
দিরাই কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দিরাইয়ের বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের বিআর—২৮ জাতের ধানের ফলন হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমিতে ব্লাষ্ট রোগের দেখা দিয়েছে। যার ফলে ধানে চিটা দেখা দিয়েছে।
কালিয়াকোটা হাওর পাড়ের আলীপুর গ্রামের কৃষক রবীন্দ্র সরকার বলেন, উচ্চ ফলনশীল না হলেও এই ব্রি—২৮ ধানটি আগে পেকে যায় এই দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা ধানটি আবাদ করি। তিনি বলেন, আমার অর্ধেক জমিতে ২৮ ধানের চারা রোপণ করেছি কিন্তু সব ধান চিটা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
একই হাওরের মাছিমপুর গ্রামের কৃষক আবু হানিফ মিয়া বলেন, আমাদের হাওরের প্রায় সকল কৃষককেই কিছুু জমিতে আগাম জাতের ব্রি—২৮ জাতের ধান আবাদ করেছে। গেল বছর গরম বাতাসে এই ধানটি সাদা হয়ে গিয়েছিল, এ বছর চিটা হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে দিরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ আহমদ জানান, তিন ধরনের ব্লাস্ট রোগে ধানের চারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। দিরাইয়ের হাওরে এই তিন প্রকার ব্লাস্টেই আক্রান্ত হওয়ার নমুনা আমরা পেয়েছি। আগাম জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগের খবর পেয়ে আমরা কৃষকদের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদান করেছি। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্প্রে করার প্রবণতা কম তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। সাধারণত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ ছড়িয়ে পরে ব্যাপক ভাবে।