দিরাই সংবাদদাতা
হাজারো কৃষকের বারো ঘন্টার অক্লান্ত পরিশ্রমে বাঁশের আড়ে নৌকা ডুবিয়ে ও বস্তা ফেলে জারুলিয়া খেয়াঘাট বাঁধ রক্ষা করেছেন এলাকাবাসী। উজান থেকে নেমে আসা পানির ধাক্কায় বুধবার বিকাল তিনটায় আকস্মিকভাবে ভেঙ্গে যায় দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া খেয়াঘাট বাঁধ। মুহূর্তের মধ্যেই এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পরে। এলাকার মসজিদের মাইকে বাঁধ ভাঙ্গার খবর জানতে পেরে এলাকাবাসী বাঁধের পাড়ে জড়ো হতে থাকেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেনের নেতৃত্বে এলাকাবাসী বাঁশের আড় বেঁধে ও বস্তা ফেলে বাঁধটিকে আটকানোর চেষ্টা চালান।
জারুলিয়া বাঁধটি টাঙ্গুয়ার হাওর উপ—প্রকল্প ৩১ এর আওতায় রয়েছে। বাঁধের পিআইসির সভাপতি সৈয়দ আলী হোসেন বলেন, এই বাঁধটি মূলত ঝুকিপূর্ণ তালিকায় ছিল না। হঠাৎ করেই খবর পাই জারুলিয়া খেয়া ঘাট অংশে বাঁধের নিচ দিয়ে সুরঙ্গ হয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই বাঁধটি ভেঙ্গে যায়।
কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেযারম্যান একরার হোসেন বলেন, চারদিকের বাঁধগুলোর অবস্থা খারাপ শুনে আমি নিজে থেকে আগেই দুইশত বাঁশ রেডি করে রেখেছিলাম। বাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে ঐ বাঁশগুলো উপস্থিত মুহূর্তে কাজে লাগাই। বাঁধটি আপাতত আটকে দেয়া হয়েছে, কিন্তু এর উপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে। বৃষ্টি হলে অথবা নদীতে আরো পানি বৃদ্ধি পেলে আবারও বাঁধটি ঝুঁকিতে পড়বে। ইউনিয়নবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনতা ঐক্যবন্ধ হলে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।
স্থানীয় রাড়ইল গ্রামের কৃষক চান মিয়া চৌধুরী বলেন, টাংনী হাওরে আমাদের অনেক জমি রয়েছে, যেগুলো এখনো পাকা শুরু হয়নি। এই মুহূর্তে বাঁধটি আটকানো না গেলে এলাকাবাসীর দুঃখ দুর্দশার সীমা থাকতো না। খবর পেয়ে তড়িৎগতিতে বাঁধে চলে আসি। সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি বলেই আল্লাহর রহমতে বাঁধটি রক্ষা করা গেছে।
বড় ক্ষতি থেকে আপাতত রক্ষা পাওয়া টাংনী হাওরে তাড়ল ও কুলঞ্জ ইউনিয়নবাসীর প্রায় ১৮০০ হেক্টর বোরো ফসল রয়েছে বলে জানিয়েছেন দিরাই বাপাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন।
বাঁধে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, এই বাঁধটি আটকানো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি পুরোনো বাঁধ উল্লেখ করে বলেন, এই বাঁধে এ বৎসর শুধু রিপিয়ারিং করা হয়েছে। আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় এই বাঁধটি ছিল না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা কিছু করণীয় আমরা স্থানীয় কৃষকদের সাথে পরামর্শ করে করেছি।