দিরাই প্রতিনিধি
তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক চেনার প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তিনি। দেশ মাতৃকার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন অগ্র সৈনিক। স্বাধীনতা সংগ্রামে বেসামরিক লোক হিসেবেই তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার নেতৃত্বে একটি সাবসেক্টর গঠন হয়েছিলো। জনকল্যানকর, জনমুখী গণতন্ত্রমনা রাজনীতির পুরোধা ছিলেন। যার জীবনের অর্ধেকেরও বেশী সময় কেটেছে জাতীয় সংসদে। শুধুই দিরাই-শাল্লা নয় বৃহত্তর সিলেটবাসীর জন্য তিনি ছিলেন ছায়া’র মত।
এভাবেই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জাতীয় নেতা
আটবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন এলাকার বিশিষ্ট জনেরা। দিরাই ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মিহির রঞ্জন দাস বলেন,‘তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রগতিশীল এক রাজনীতিবিদ। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আজন্ম লড়াই করে গেছেন।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এলাকার সাবেক সংসদ সংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘তিনবার আমি উনার সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। একবার আমি জয়ী হয়েছি। ২ বার তিনি জয়ী হয়েছেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলেও উনার সাথে আমার সম্প্রীতির সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। তিনি পুরোপুরি একজন গণতন্ত্রমনা রাজনীতিবিদ ছিলেন।’
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন,‘দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উনার পক্ষে বিপক্ষে রাজনীতি করেছি। কোন কোন সময়ে দু-জনের রাজনৈতিক দর্শন ভিন্ন হলেও তিনি অভিভাবক ছিলেন। যে কোন প্রয়োজনে কথা বলার একটি জায়গা ছিলো, সেটি আজ হারিয়ে গেল। আমরা আজ অভিভাবক শূন্য হয়ে গেলাম।’
দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল বলেন,‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জায়গা পূরণ হবার নয়। আপন মহিমায় তিনি যেভাবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, দিরাই-শাল্লাবাসীকেও পরিচিত করেছেন দেশ বিদেশে। একজন সুরঞ্জিত দিরাই-শাল্লাবাসী তথা রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটুকু প্রয়োজন তা এখন বুঝা যাবে।’
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান বলেন,‘বাঙালির মুক্তির মিছিলে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। বেসামরিক লোক হয়েও সাব সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিরল সম্মান অর্জনের পাশাপাশি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে তার ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।’