- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাইয়ের আ.লীগের রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিত ক্ষুব্ধ নেতারা দিরাই থানা পয়েন্টে আগামী ২১ জানুয়ারি দলের উদ্যোগে সমাবেশ ডেকেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দিরাই পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোশারফ মিয়াকে ক্ষমা করে দলে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় তারা এই কৃতজ্ঞতা সমাবেশ ডেকেছেন। অন্যদিকে, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে সমাবেশ ডাকার খবর তারা জেনেছেন, এখানে দলের নাম ব্যবহার হলে জেলায়- কেন্দ্রে নালিশ করবেন তারা।
প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনী এলাকা দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তবে গেল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতাকে ঘিরে এবং গত ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগের উপজেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিভক্তি এখন অনেকটা মারমুখী।
সংগঠনের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলতাব উদ্দিন, সদ্য হওয়া সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তার আস্থাভাজন হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই তিনজনই। অপরাংশের নেতা সাবেক পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়। এই দুই জনের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের। তাদের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদারও। গত ১৪ নভেম্বর দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে কমিটি গঠন নিয়ে মতভিন্নতায় অ্যাড. সোহেল ও অ্যাড. অভিরাম পূর্বের সঙ্গ ছেড়েছেন।
অ্যাড. সোহেল আহমদ নিজের বলয় ছাড়া প্রসঙ্গ বললেন, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে বিতর্কিত কমিটি গঠন হয়েছে। সভাপতি কামাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করেন নি। সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে নিয়েও বিতর্ক আছে। দিরাইয়ে যারা দলের ত্যাগী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত তাদেরকে নিয়ে গত শনিবার আমরা সভা করেছি। এই সভা থেকে আগামী ২১ জানুয়ারি দিরাই পৌর পয়েন্টে সমাবেশ ডাকা হয়েছে।
দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া বললেন, ২১ জানুয়ারি দিরাই আওয়ামী লীগের আয়োজনেই পৌর পয়েন্টে সমাবেশ ডাকা হয়েছে। দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের কোন কমিটি নেই। সম্মেলন শেষে যে কমিটি হয়েছিল, ওই কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অকার্যকর। তারা ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারে নি।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বললেন, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের গত ১৪ নভেম্বরের সম্মেলন যারা বাঞ্চাল করতে চেয়েছিলেন, তারা শুনেছি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা সমাবেশের আয়োজন করবেন। এটি যে কেউ করতে পারেন। কিন্তু দলের ব্যানারে এই আয়োজন হলে আমরা জেলা ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের কাছে বিষয়টি জানাবো। যারা এই উদ্যোগ নিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তিনি জানালেন, ৪৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বিধান গঠনতন্ত্রে নতুন সংযোজন হয়েছে। এটি দিরাই উপজেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আমরা শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জেলায় এবং কেন্দ্রে পাঠাব।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি কামালকে নিয়ে বিতর্ক আছে। এটি সুরাহা হওয়া জরুরি। দলের বিদ্রোহী যাদের ক্ষমা করা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি দলীয় প্রধানকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা সমাবেশ করবে। ওই সমাবেশে আমি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমন অতিথি হিসেবে যাবার কথা আছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বললেন, দিরাইয়ে দলের আয়োজনে কোন সমাবেশের খবর আমার জানা নেই। ওখানে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলন হয়েছে। কমিটি অনুমোদনে আমি ও সভাপতি মতিউর রহমান সাহেবের স্বাক্ষর আছে। দলীয় কোন কর্মসূচীতে যেতে হলে ওই কমিটির আয়োজিত কর্মসূচীতেই যেতে হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বললেন, দিরাইয়ে বিদ্রোহীদের স্থান দেওয়া হবে না পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। তারা বাদ পড়বে। অন্য কেউ কেউ ভুল বুঝেছেন। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই দ্বন্দ্ব থাকবে না। সকলে আমরা একসঙ্গে দল করবো।
প্রসঙ্গত. গত ১৪ নভেম্বর দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সংগঠনের বিবদমান দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছিল। চেয়ার মাথায় উঠিয়ে ইটপাটকেলের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তখনকার প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

  • [১]