- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাইয়ে অংশ নেয়নি ৯০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাইয়ে চলতি বছরের জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি ৯০ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা। সরকার এর উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করলেও টনক নড়ছেনা সংশ্লিষ্টদের। এবার জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি উপজেলার ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার প্রাথমিক, এবতেদায়ী ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ২২৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মাত্র ৩০ টি প্রতিষ্ঠান। ৭ ও ৮ জানুয়ারি দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত জাতীয় এ কর্মসূচির ৭৯ টি ইভেন্টের মধ্যে ৩ টি ইভেন্টে কোন প্রতিযোগী অংশ নেয়নি। বাকি ৭৬ টি ইভেন্টে সর্বমোট ৩২০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। অভিভাবকদের সচেতনতায় বিচ্ছিন্নভাবে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ সরকার শিশু কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশ সাধন, দৈহিক সুস্থ্যতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও বিদ্যালয়ে মনোনিবেশ বাড়াতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা চর্চার উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে আসছে। কিন্তু দিরাইয়ে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এর চর্চা হচ্ছে না বললেই চলে। যার কারণে হাওরাঞ্চলের শিশুকিশোরদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আনন্দ উল্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুষ্টিমেয় শিক্ষক ও অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে মাঠে এসেছেন। এসময় একাধিক শিক্ষক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটি ইভেন্টে বিজয়ীর সংখ্যা নির্ধারিত ৩ জন হলেও বেশীর ভাগ ইভেন্টে ৩ জন প্রতিযোগীই পাওয়া যাচ্ছে না।
দিরাই পৌর সদরের চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাসিন্ধু দাস বলেন, প্রতিযোগিতার বিষয়ে চিঠি দিয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি নিজ উদ্যোগে আমার ছেলেকে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিয়েছি।
উপজেলার নারায়নকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতিপ্রসাদ মজুমদার জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতা কতগুলো ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটাও জানেন না।
তিনি বলেন, আমাকে চিঠি দিয়ে কিছু জানানো হয়নি, আমার প্রতিষ্ঠান থেকে কোন শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি।
আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমিতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বে আছি। প্রতিযোগিতা তো শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
তাড়ল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাইনুল হক চৌধুরী বলেন, আমাকে অফিসিয়াল কিছু জানানো হয়নি।
রফিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমন দাস বলেন, আমি প্রতিযোগিতার বিষয়ে কিছুই জানিনা। গত মঙ্গলবার অফিসের কাজে দিরাই এসে জানতে পারি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা চলছে। আমার মতো উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ই এবিষয়ে জানেনা।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় বলছেন, পত্র প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য জানিয়ে দেয়া হয়েছে। চর্চা না থাকার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • [১]