দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নে রামচন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ এবং সরকারের খাস জমি দখল করে চরনারচর বাজারে দোকান কোঠা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান ইউপি সদস্য চিত্ত সুত্রধর, সাবেক ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র রায়, কানাই লাল রায়, দিলীপ রায়, ও সজল রায় অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভবন নাম দিয়ে রামচন্দ্র সরকার যে বাড়িতে বসবাস করছেন তার প্রকৃত মালিক হচ্ছেন চরনারচর গ্রামের গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায়ের ছেলে গোপেশ চন্দ্র রায়। ৪৩নং জে এলস্থ চরনারচর মৌজায় ৭৩ নং খতিয়ানে ও ১১৮২ নং দাগের ২৪ শতক এই বাড়ির বর্তমান মাঠ জরিপ ও রেকর্ডেও গোপেশ চন্দ্র রায় ও গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায়ের নাম রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে গোপেশ রায় ভারত চলে যান। তখন গোপেশ রায় এই বাড়িতে সতু রায় নামের জনৈক ব্যক্তিকে বসবাস করতে দিয়ে যান। রাম চন্দ্র সরকারের বাড়ি একই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হলেও ১০/১২ বছর আগে রাতের আঁধারে পার্শ¦বর্তি চরনারচর গ্রামের গোপেশ রায়ের বাড়িতে থাকা নিরীহ সতু রায়কে সরিয়ে অবৈধভাবে দখল করে নেন। পরবর্তিতে দখল পাকাপোক্ত করতে দালান ঘর নির্মাণ করে ‘মুক্তিযোদ্ধা ভবন’ নাম দেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে রামচন্দ্র সরকার বলছেন, দখল নয় সতু রায়ের কাছ থেকে তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় এই জায়গা ক্রয় করেছেন। রেজেস্ট্রি করেননি, সতু রায় ভারত থেকে এসে দলিল করে দেবেন। প্রমাণ হিসেবে সতু রায়ের দেয়া লিখিত স্ট্যাম্প তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে রামচন্দ্র সরকারে বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জায়গা দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন চরনারচর গ্রামের কাজলী রানী রায়। অভিযোগের তদন্তে এসআই শাহ আলম ভূঁইয়া গত শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযোগকারি কাজল রানী রায় সহ ইউপি সদস্য চিত্ত সুত্রধর ,সাবেক ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র রায়, সতু রায়ের মামাতো ভাই কানাই লাল রায়, দিলীপ রায়, ও সজল রায় এবং অভিযুক্ত রাম চন্দ্র সরকার গংরা তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
এসআই শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, অনেক কিছুই ভুয়া। গ্রামে দুটি পক্ষ রয়েছে, তাদের বিরোধের কারণে এসব হচ্ছে। খাসজমি দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এসিল্যান্ড বরাবর অভিযোগ করলে উচ্ছেদ করা হবে।