স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে হয়ে গেলো দিনব্যাপী বিলুপ্ত প্রায় ঘাটুগানের আসর। দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় এই ঘাটুগান। উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের খাজাউরা গ্রামে শনিবার ভোর রাত থেকে শুরু হয়, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। ঘাটুগান হাজারো দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, স্থানীয়রা ঘাটুগানকে ‘উরি গান’ নামে জানেন। সাধারণত প্রতিবছর গ্রামের যে বাড়িতে দোলের বেদি প্রতিষ্ঠা করা হয় সেই বাড়িতেই উরি গানের আসর বসে। সূর্য ওঠার আগে দুই বা ততোধিক ঘাটু নিয়ে শুরু হয় গান। একপক্ষ গানের মাধ্যমে অন্য পক্ষকে প্রশ্ন লপান। আবার অন্য পক্ষ উত্তর দিয়ে পুনরায় প্রতিপক্ষকে প্রশ্নবাণ ছুড়েন। খোল করতাল, হারমোনিয়াম আর হাততালির মাধ্যমে অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দিরাইয়ের খাগাউড়া গ্রামের প্রবীণ লোকশিল্পী ও গীতিকবি মুকুল ঠাকুর বললেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই উরি গান করে আসছি। এর জন্য আমরা সারাবছর প্রতীক্ষায় থাকি। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে একতা, প্রেম, পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের অনন্য নজির হলো এই উরিগান। এখানে গ্রামের সকল বয়সীদের একসাথে নাচগানের কোন বাধা থাকে না।
ভাটি অঞ্চলের বিখ্যাত যাত্রা শিল্পী রিবেন তালুকদার বলেন, উরি গানে অংশগ্রহণে কোন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকে নিমন্ত্রণ করা যায় না। এটি করতে হলে পুরো গ্রামকে করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় আমন্ত্রণ পাঠানো গ্রামের লোকজন আবার পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকেও শিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী নিয়ে আসেন। এটাকে আমরা সম্প্রীতি বলি। এটা আবহমান কাল থেকে হয়ে আসছে।
দিরাই সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মিহির রঞ্জন দাস বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখতে উরি গানের মতো যেসব উৎসব রয়েছে সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাঙালিয়ানা আচার রয়েছে সেসব আমাদের খুব বেশি করে চর্চা করতে হবে। তবেই আমরা সামাজিক অবক্ষয় থেকে কিছুটা হলেও নিজেদের রক্ষা করতে পারবো।