- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাইয়ে শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের চার্জশীট দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাইয়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবা আব্দুল বাছির, ৩ চাচা ও ১ চাচাতো ভাইসহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদ্বীপ পাল চার্জশীট গ্রহণ করেছেন। হত্যাকা-ের আড়াই মাসের মাথায় সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। পুলিশ সুপার বলেন, এর আগে এই গ্রামের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে দুটি পৃথক ঘটনায় ২ জন খুন হয় এবং দুই পক্ষে অসংখ্য মামলা রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়।
গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউরা গ্রামের সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন কে নির্মমভাবে গলা, কান, লিঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়। খুনিরা তুহিনের পেটে ছুড়া ঢুকিয়ে বাড়ির পাশে কদম গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
পরদিন দুপুরে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মোছাব্বির, জমশেদ আলী, মো. নাছির উদ্দিন, জাকিরুল, তুহিনের চাচী ও চাচাতো ভাই মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহ্রিয়ার আহমদ এবং চাচাতো বোনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের সদস্যদের হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পায় পুলিশ।
হত্যাকা-ের দুই দিন পর চাচা নাছির মিয়া ও মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে চাচাতো ভাই শাহ্রিয়ার আহমদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দেয়।
সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম বলেন, গত আড়াই মাস পুলিশ এই মামলা নিবিড়ভাবে তদন্ত করেছে। তদন্ত শেষে সোমবার আদালতে চার্জশীট জমা দেওয়া হয়েছে।
চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলেন- তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মোছাব্বির, জমশেদ আলী, মো. নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহ্রিয়ার আহমদ।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, শিশুটি বাবার সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল, বাবার পাশ থেকে একটি সন্তানকে তুলে নেওয়া হয়েছে, বাবা জানেন না, সেটি অবিশ^াস্য। তাছাড়া তুহিনের চাচা ও চাচাতো ভাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাবা আব্দুল বাছিরের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের সময় জানা গেছে গ্রামের আনোয়ার মেম্বার ও তুহিনের বাবা চাচাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ২০০২ সালে গ্রামে মুজিব নামে একজন খুন হয়। ২০১৫ সালে গ্রামের জবর আলীর মেয়ে খুন হয়। একটি মামলায় দুই পক্ষ মিমাংসায় চলে গেছে। আরেকটি মামলায় তুহিনের বাবা-চাচাদের ধারণা হয়েছিল, তাদের শাস্তি হয়ে যাবে। এজন্য প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে তারা এমন ঘটনা সাজায়।
পুলিশ সুপার বলেন, খুনের ঘটনাটি নৃশংসভাবে ঘটানো হয়েছিল এলাকার মানুষের সহানুভূতি আদায়ের জন্য।
তুহিন হত্যা মামলার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মিজানুর রহমান পিপিএম এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার মোটিভ দেখে অপরাধী কারা বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। কিন্তু নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, এজন্য আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর আশেক সুজা মামুন জানিয়েছেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদ্বীপ পাল সোমবার দিরাইয়ে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু তুহিন হত্যাকা-ের চার্জশীট গ্রহণ করেছেন।

  • [১]