দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামের মৃত. মিন্তার উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি, জনসাধারণের চলাচলের সরকারি গোপাট দখল, কৃষি জমিতে পানি সেচে বাধা এবং জলমহাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৪ ডিসেম্বর নুরনগর, আলীনগর ও পাশানগর গ্রামের পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নুরনগর গ্রামের মাওলানা শাব্বির আহমদ।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফিরোজ আলী ও তার বাহিনীর তান্ডবে অসহায় উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নূরনগর, আলীনগর ও পাশানগর গ্রামের লোকজন। ১নং সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত দয়াদুপনী মৌজার জেল নং ১৬ এর ১০০১ দাগে ৩৪ শতক খাল, ১০০২ দাগে ১.১০ শতক লায়েক পতিত, ১০০৩ দাগে মোট ৭৭ শতক নালা রয়েছে। যা এলাকার লোকজন যুগ যুগ ধরে কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করে আসছে। ফিরোজ আলী ও তার লোকজন কতিপয় এটি দখলে নেয়ার নেয়ার পায়তার করছে। দয়াদুপনি মৌজার জে এল নং ১৬, খতিয়ান নং-১ দাগ নং ১০০২ লায়েক পতিত জায়গাটি ফিরোজ আলী এবং নবাব, পারুল, জমসেদ, গিয়াস, রেজু, সলিম, বছু, ছুটিল, ছোট মিয়া, আব্দুননুর গংরা এলাকাবাসীকে তোয়াক্কা না করে বিক্রয় করছে। প্রাথমিকভাবে তারা প্রতিটি বসতভিটা নির্মাণ করার শর্তে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। গোপাট ছাড়া পশ্চিমের হাওরগুলো থেকে ধান এবং গরু-বাছুর আসা যাওয়ার আর কোন বিকল্প রাস্তা নেই। এ ব্যাপারে সংশি¬ষ্ট ভূমি অফিসেও অভিযোগ করা হয়েছে।
নুরনগর গ্রামের আবু রশিদ, ফজল ও আজব নুর, আলী নগরের রফিক মিয়া, আনেস মিয়া তালুকদার, ভাটি পাড়া গ্রামের মইদর আলী ও খালেক মিয়া জানান, ফিরোজ আলী ও তার বাহিনীর লোকজন লায়েক পতিত গোপাটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে চাইলে বাধা দেয় গ্রামের মানুষ। এতে তাদের বাড়িঘরে ও গ্রামের সুমন, সফর, তারাজুল সফিকুলসহ আরও অনেকের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ফিরোজ আলী ও তার বাহিনীর লোকজন।
ফিরোজ আলীর ভাতিজা গ্রামের রেজু মিয়া জানান, সরকারি জায়গায় আমরা চাইছিলাম এলাকার গরীব লোকদেরক ঘর করে দিতে। শাব্বির মিয়ার লোকজন বাধা দিচ্ছে, আমরা দশের কথায় বাদ দিছি। শাাব্বির মিয়ার লোকজনই খাস জায়গায় ক্ষেত করে। ফিরোজ আলীর কোন বাহিনী নাই। আমরা আনলিগেল কোন কাজ করি না।
ভাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান কাজী বলছেন, এলাকায় দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ফিরোজ আলী ও তার লোকজন কারও কথা শুনে না।
দিরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, খাস জায়গা কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। যে জায়গা নিয়ে ঝামেলা সেই জায়গা জামালগঞ্জ থানার সীমানায় আর ঝগড়া হয়েছে দিরাই থানায়। এ নিয়ে দুটি মামলা রয়েছে। খাস জায়গার বিষয় ভূমি অফিস দেখবে।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারি জহুর আহমদ জানান, সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের তদন্তে সরেজমিন গিয়েছি। গ্রামে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণ বা চাষাবাদ করার সুযোগ নেই। দাঙ্গা হাঙ্গামা না করতে উভয় পক্ষকেই বলেছি আমরা।