- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাইয়ে সড়কের ওপর বাসষ্ট্যান্ড, ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই উপজেলা শহরের আনোয়ারপুর এলাকার কলেজ রোডের মোড়টি চারটি সড়কের কেন্দ্রস্থল। ব্যস্ততম এই স্থানে মূল সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আছে বাসষ্ট্যা-। সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায় সৃষ্টি হয় যানজটের। এতে যাত্রীদের সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা।
পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এখান থেকে বাসষ্ট্যা- সরানোর জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও সেটি করা হচ্ছে না। জায়গাটি শহরের প্রবেশ মুখ হওয়ায় দিন দিন মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশে বাসষ্ট্যা-ের চারদিকে দোকানপাট। এখান থেকে পশ্চিম দিকে একটি সড়ক গেছে উপজেলার শ্যামারচর বাজারে। দক্ষিণ দিকের সড়কটি গেছে শাল্লা উপজেলায়। পুর্বদিকের সড়ক হয়ে যেতে হয় মূল শহরে। আর উত্তর দিক থেকে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়ক।
স্থানীয় কয়েজন ব্যক্তি জানান, এই  মোড় পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন চারটি কিন্ডার গার্টেনে শিশুরা, দিরাই ডিগ্রি কলেজ ও একটি মাদ্রাসায় যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সড়কের ওপর বাস, লেগুনা, অটোরিকশা, ইজিবাইক থাকা    
এবং একই স্থানে যাত্রী ওঠা-নামা করায় ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।
বাসষ্ট্যা-ের দায়িত্বে থাকায় বাস মালিক সমিতির চারজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ থেকে ২০ বছর বছর আগে এখানে বাসষ্ট্যা- হয়। এখান থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার মানুষ সুনামগঞ্জ, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন শতাধিক বাস এখন থেকে যাওয়া-আসা করে। কিন্তু সড়কের পাশে কোনো জায়গা নেই। তাই সড়কের ওপর রাখা হয় বাস। একই জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে জায়াগটিই লেগুনা, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ষ্ট্যা- হিসাবে। এ কারণে সমস্যা হচ্ছে আরও বেশি।
ষ্ট্যা-ের পাশের দোকানি আলী আকবর বলেন, দিরাই শহরের এখন বড় সমস্যা হচ্ছে এই বাসষ্ট্যা-। দিনের বেশিরভাগ সময়ই সড়কের ওপর যানবাহনের জট লেগে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ পড়েন ভোগান্তিতে। আমরা এখান থেকে বাসষ্টা- সরানোর জন্য দাবি জানালেও কোনো ফল হয়নি।
দিরাই ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সল আহমদ তালুকদার বলেন,‘সকালে কলেজে যেতে বেশি সমস্যায় পড়েন শিক্ষার্থীরা। যানবাহন এলোপাতাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যানবাহন আর মানুষের ভিড় ঠেলে ছাত্রীদের কলেজে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখান থেকে বাসষ্ট্যা- দ্রুত সরাতে হবে।
জানা গেছে, এখানে সুনামগঞ্জের দুটি ও সিলেটের দুইট বাস মালিক সমিতির চারজন ব্যবস্থাপক রয়েছেন। এই চারজনই জানান, এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে তাতে একটি খোলা জায়গায় বাসষ্ট্যা- স্থানান্তর করা জরুরি। তবে আপাতত লেগুনা, অটোরিকশা, ইজিবাইক সরানো গেলে সমস্যা কিছুটা কমবে।
সিলেট মটর মালিক গ্রুপের ম্যানেজার কাছা মিয়া বলেন, ২০ বছর ধরে এখান থেকে বাস যাতায়াত করে। এখন যানবাহন, মানুষ বেড়েছে, তাই সমস্যা হচ্ছে বেশি।  একটি বড়সড় খোলা স্থানে বাসষ্ট্যা- স্থানান্তরের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছি।
আরেক সমিতির ম্যানেজার নবী হোসেন বলেন, শুধু বাস থাকলে সমস্যা এতটা হতো না। এখন ছোট গাড়িগুলোই (লেগুনা, অটোরিকশা ও ইজিবাইক) সমস্যা করছে বেশি। এগুলো আলাদা স্থানে সরানোর জন্য আমরা বারবার বলছি।’
সুনামগঞ্জ অটো-টেম্পো ও অটোরিকশা চালক ইউনিয়নের দিরাই শাখার সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন,‘শুধু ছোট গাড়ির দোষ দিলে হবে না। এখানে যখন-তখন যানজট লাগে। কিন্তু কোনো ট্রাফিক নেই। আমরা নিজেরাই রাস্তায় নেমে যান চলাচলের সুবিধা করি। এখান থেকে বাসষ্ট্যা- না সরানো পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হবে না।
দিরাই পৌরসভার মেয়র মো. মোশারফ মিয়া বলেন,‘এখান থেকে ষ্ট্যা- সরানোর জন্য আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দিরাই-সুনামগঞ্জ সড়কের ফায়ারসার্ভিস স্টেশনের পাশেই একটি জায়গাও নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু এটি আর স্থানান্তর করা যায়নি।’ তিনি বলেন, এটি এখন শহরবাসীর গলার কাটা হয়ে আছে। শহরে ঢুকতে গেলেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘আমার জানামতে বাসষ্ট্যা- বর্তমান জায়গা থেকে স্থানান্তরের জন্য প্রাথমিকভাবে নতুন একটি জায়গা র্নিধারণ করা আছে। আমরা পৌরসভার সঙ্গে বসে বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে দেখব।’

  • [১]