দিরাই সংবাদদাতা
এই রাস্তা দিয়া খালি মানুষেই হাইট্টা যাইতে পারে না, আমরা গাড়ি চালাইতাম কিতা করি? অন্তত মাসখানেক না গেলে এই রোডে আর গাড়ি নামাবো না। কথাগুলো বলছিলেন রাজাপুর গ্রামের টমটম চালক দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে একবার আসা যাওয়া করলে এই গাড়ির নাটবল্টুসহ সকল কিছু খুলে পড়ে যাবে। একই রোডে বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বাউসী নোয়াগাঁও গ্রামের আশিক। তিনি বলেন, ভয়ে যাত্রীরা বাইকে উঠতে চায় না। বন্যার পর থেকে ঠিক মতো গাড়ি চালাতে পারছি না। দু-চারজন গাড়িতে উঠেন, রাস্তায় অন্তত ১০ জায়গায় যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয়। পরিবার চালানো দায় হয়ে গেছে। দ্রুত রাস্তা ঠিক না হলে ঋণ করে কেনা বাইক বিক্রি করে দিবেন বলে জানান আশিক।
দিরাই পৌর শহরের ইউপি রোড থেকে টেলিফোন বাজার পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এই সড়কটি মূলত দিরাই-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের অংশ। দিরাই শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বৃহৎ অংশ চলাচলের অনুপযোগী হলেও দিরাই থেকে টেলিফোন বাজার পর্যন্ত টমটম, মটর বাইক ও সিএনজি চলাচল করতে পারে। এ সড়ক ব্যবহার করে দিরাই পৌরসভার নরোত্তমপুর, রাজাপুর ও তাড়ল ইউনিয়ন ও সরমঙ্গল ইউনিয়নের ইসলামপুর, নোয়াগাও, বাউসী, উজান বাউসী, ডাইয়ারগাঁও, সন্তোষপুর, চন্দ্রপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে।
সরজমিনে দেখা যায়, বন্যার তীব্র ¯্রােতে সড়কের প্রায় পুরো অংশেই ছোট-বড় গর্ত তৈরী হয়েছে। কোন কোন অংশে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল পর্যন্ত করতে পারছেন না। এক পশলা বৃষ্টিতে যেন সড়কেই ছোট জলাশয় তৈরী হয়। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে টমটম সিএনজি চালকেরা বেকার হয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনায় ভয়ে ছোট বাহনে চড়তে চায় না কেউ। বিপাকে পড়েছেন অসুস্থ রোগীসহ এলাকার স্কুল, কলেজ পড়য়া শিক্ষার্থীরা।
নরোত্তমপুর গ্রামের বাইক চালক আক্তার হোসেন জানালেন, আমার চোখের সামনে বেশ কয়েকবার চাকা স্লিপ করে গাড়ি পড়তে দেখেছি। তিনি বলেন, আজ তিনদিন পরে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে গাড়ি নিয়ে বার হইছি। কর্তৃপক্ষের উচিত জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামত করে দেয়া।
ইসলামপুর গ্রামের গফুর মিয়া বলেন, বন্যার পর থাইক্কা গাড়িতে উঠা ভয় করে। পোলাপানদের স্কুলে দিতে ভয় করে। টমটম গাড়িই বেশি চলে এই রাস্তায়। এই গাড়িগুলো উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার আলম বলেন, দিরাই বাস স্ট্যান্ড থেকে শাল্লা সড়কটি সওজের আওতায়। এখানে তথ্য প্রেরণ ছাড়া আমাদের কার্যত কিছুই করার থাকে না।
এ প্রসঙ্গে সওজ সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, বন্যায় জেলার প্রায় সবকয়টি সড়কেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষত উপজেলার সাথে জেলা শহরের কানেক্টিং সড়কগুলোতে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। দিরাই বাজার থেকে টেলিফোন বাজারপর্যন্ত সড়কটি দিরাই-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে খুব তাড়াতড়ি কাজ শুরু হবে। সুড়কি, বস্তাভর্তি বালু ফেলে সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে।