- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাই-শাল্লার নিরুত্তাপ নির্বাচনে উত্তাপ সঞ্চার

জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া দিরাই-শাল্লার জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি শুরুতে যতোটা আকর্ষণহীন ও প্রতিযোগিতাবিহীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল এখন সেটি ক্রমশ জমজমাট ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেই মনে হয়। স্বতন্ত্র যে প্রার্থীকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর আগের তেমন কোন পরিচিতি ছিলো না। তিনি মূলত প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যক্তি। নির্বাচন আসার পর  হঠাৎ করেই মনোনয়নপত্র দাখিল করে আলোচনায় আসেন। অন্যদিকে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সহধর্মীনি সুশিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী জয়া সেন গুপ্তা ইতোপূর্বে রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও সেন গুপ্তের ব্যক্তিগত ইমেজে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছিলেন। জয়া সেন গুপ্তার সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে দিরাই-শাল্লার রাজনীতি বুঝেন এমন যে কারও কাছে সেটি ছিলো অসম্ভব এক বিষয়। এই অসম্ভব বিষয়টিই এখন সম্ভব হতে চলেছে। জনগণের ভোটে কে জিতেন সেটি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব না হলেও নিরুত্তাপ এই নির্বাচনটিতে উত্তাপ সঞ্চার করতে সমর্থ হয়েছেন ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু। এজন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। অনালোচিত রেজুর আলোচনায় আসার মূল যে কারণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা চিহ্নিত করেন সেটি হলো বিএনপির জেলা আহ্বায়ক নাছির চৌধুরীর প্রকাশ্য সমর্থন লাভ। নাছির চৌধুরী দলীয় নীতি-কৌশলের বাইরে গিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত বিরোধী একটি ক্ষুদ্র বলয়ও রেজুর সমর্থনে গোপনে-প্রকাশ্যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর রয়েছে। এইসব ফ্যাক্টরকে জয়া সেন কাটিয়ে উঠতে পারেন কিনা এখন দেখার বিষয় সেটি।
দিরাই শাল্লায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভোটের রাজনীতি আবর্তিত হচ্ছে সুরঞ্জিত সেন ও নাছির চৌধুরীকে ঘিরে। অনেকেই বলে থাকেন আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বড় কথা নয় দিরাই-শাল্লায় সুরঞ্জিত-নাছির চৌধুরীই শেষ কথা। এই দুই রাজনীতিকের দ্বৈরথে বরাবরই নাছির চৌধুরী ধরাশায়ী হয়েছেন আর বিজয়ের হাসি হেসেছেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। সুরঞ্জিতের মৃত্যুতে এবার তাঁর বিরোধী বলয় সুরঞ্জিত যুগের অবসান হতে চলেছে বলে উৎফুল্ল ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির চিরাচরিত যে বৈশিষ্ট্য সেখানে নেতার অনুপস্থিতিতে দলে অসংখ্য বিভাজন তৈরি হয়। ওই বিভাজন আটকে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেই উত্তরাধিকার রাজনীতির উত্থান আমাদের দেশে। জয়া সেন গুপ্তও ওই ধারারই ফসল। নাছির চৌধুরী বা তাঁর দল নির্বাচনে না আসলেও চিরাচরিত লড়াই থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা সংবরণ করে দলীয় রাজনীতির প্রতি অনুগত থাকতে পারেন নি নাছির। তিনিও প্রবলভাবে চলে এসেছেন নির্বাচনে রেজুর দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করে। সুতরাং দিরাই-শাল্লায় আরেকটি সুরঞ্জিত-নাছির দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।
কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে এই নির্বাচনে কিছু অনুভূতিপ্রবণ সুক্ষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সুরঞ্জিত জীবিত থাকা অবস্থায় এই আসনে তিনি কখনও সম্প্রদায় বিশেষের প্রতিনিধিত্ব করেন নি। তিনি সমর্থন পেয়েছেন সকল সম্প্রদায়ের। তিনি সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র গ-িতে থাকার ব্যক্তি নন। তিনি ছিলেন জাতীয় নেতা। তাঁর সহধর্মীনি জয়া সেন গুপ্তা স্বামীর দীর্ঘ সাহচর্য ও আদর্শে অনুপ্রাণিত একই ধারার উত্তরাধিকারই বহন করেন বলে সকলের কাছে মনে হয়েছে। তাঁর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় এই বৈশিষ্ট্যই ফুটে উঠেছে। আমরা কখনও নির্বাচনে বিভেদ-বিভাজনের লক্ষণ দেখতে চাই না। এই নির্বাচনটি অতীতের গৌরব অনুসরণ করে সবধরনের ক্ষুদ্রতামুক্ত থাকবে বলেই আশা রাখছি আমরা।
জয়া সেন গুপ্তা ও ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজুকে একটি জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণাপর্ব উপহার দেয়ায় অভিনন্দন জানাই।  

  • [১]