দিরাই-শাল্লা প্রতিনিধি
জেলার সবচাইতে প্রত্যন্ত উপজেলা শাল্লাবাসীর যোগাযোগ সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। শাল্লার প্রায় দুই লাখ মানুষ গেল এক যুগ বছর ধরেই এই সড়ক নির্মাণের দাবি করে আসছিলেন। রবিবার ৬২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা- মহাসড়কের কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি।
সড়কের কাজ উদ্ধোধন শেষে এই উপলক্ষে দিরাই শহরতলির দাউদপুর পয়েন্টে আয়োজিত সমাবেশে, দিরাই-শাল্লার সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা বলেন, হাওর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং আমার স্বামী প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শেষ ইচ্ছা পূরণ করছেন বলে আমি উনাকে হাওরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
হাওরবাসীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কটি নিঃসন্দেহে এই দুই উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম সড়ক হবে। এটি শুধু এই এলাকায় নয়, এই সড়কটি বাস্তবায়িত হলে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ বানিয়াচং ও কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলাকেও সংযুক্ত করবে। দিরাই-শাল্লাবাসীর আশীর্বাদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই এই সড়কটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলাম, আজ রবিবার এর কাজ শুরু হওয়ায় সকলের সঙ্গে আমিও আনন্দিত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের সঞ্চালনায় উদ্ধোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি, সিলেট সদর সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎফল সামন্ত, সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং, আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ-উদ-দৌলা তালুকদার, শাল্লা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কাজল বরণ তালুকদার প্রমুখ।
হাওরের তলানির উপজেলা শাল্লার প্রায় দুই লাখ মানুষ একযুগ আগে স্বপ্ন দেখেছিলেন সারাদেশের সঙ্গে সড়কে সংযুক্ত হবেন। ২০১১ সালে সড়কের কাজও শুরু হয়েছিল। ২০১৭ সালে শেষ হবার কথা ছিল সড়কের কাজ। ওই সময় ৯২ কোটি টাকার বিলও উত্তোলন হয়েছিল। কিন্তু সড়কটি যান ও জন চলাচলের উপযুক্ত হয় নি। এই সড়কের অনেক অংশ হাওরের আফালের ঢেউয়ে বিলীন হয়ে অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল।
সড়কটি নির্মিত হলে সুনামগঞ্জ-দিরাই-শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ ও হবিগঞ্জের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। প্রকল্প এলাকাটি কৃষি, মৎস্য শিল্পপ্রধান হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রাং জানালেন, জয়েন্ট বেঞ্চারে চার গ্রুপে এই সড়কের কাজ করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনজেবি কন্সট্রাকসন। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের মদনপুর পয়েন্ট থেকে দিরাই পর্যন্ত পুরোনো সড়কের তিনটি বেইলি সেতু ভেঙে নতুন আরসিসি সেতু করা হবে। এরমধ্যে কাঠইড়, বোগলাকাড়া ও দরগাহ্পুর সেতু রয়েছে। এছাড়া মদনপুর-দিরাই সড়কের মদনপুর পয়েন্ট, নোয়াখালী, গণিগঞ্জ, পাথারিয়া ও দিরাইয়ে বাসস্টোপেজ করা হবে। ওখানে সড়ক হবে ৩০ ফুট প্রশস্ত। সড়কটি শাল্লা উপজেলা সদরের পাশের দাড়াইন নদীতে হওয়া সেতু পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে। শেষ মাথায়ও থাকবে বাসস্টোপেজ। সড়কের বাইরে আরও ২০ ফুট প্রশস্ত বাসস্টোপেজ হবে।
দিরাই থেকে শাল্লা পর্যন্ত ২৬ ফুট চওড়া সড়ক হবে। সড়কের উচ্চতা হবে সর্বশেষ বন্যার লেবেলেরও উপরে। পুরাতন সড়কের ব্যবহার উপযোগী ১৭ টি সেতুকে কাজে লাগানো হবে। নতুন আরও ১৪ টি সেতু কালভার্ট করা হবে। প্রত্যেকটি সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-চলাচল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের চেয়েও ১৫ ফুট উঁচু হবে প্রত্যেক সেতু। সেতুর প্রশস্ততা হবে ফুটপাতসহ ৩৪ ফুট। ফুটপাত বাদে যানবাহন চলবে ২৪ ফুট সড়ক পথে।