- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাই-শাল্লায় শোকের ছায়া

বিশেষ প্রতিনিধি ও আবু হানিফ চৌধুরী
দিরাই-শাল্লাবাসীসহ সুনামগঞ্জ ও সিলেটবাসী শ্রম- ভালবাসা- মমতা দিয়ে দুখু সেন থেকে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এবং একজন সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে দেশের বিশিষ্ট পার্লামেন্টালিয়ান হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন তাঁকে। এই মানুষগুলোর চোখে-মুখে আজ শোকের ছায়া। আনোয়ারপুরের বাড়ী ঘিরে শোকহত কর্মীদের ভিড়। প্রিয় নেতাকে  শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে চান তারা। দিরাই পৌর এলাকার সর্বস্তরের জনতা মৃত্যু সংবাদ শুনার পর থেকে কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন কর্মসূচী পালন করছেন। দিরাই পৌর এলাকার সেন মার্কেট দুই দিন বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
শনিবার ভোর ৪ টা ২৪ মিনিটে সুনামগঞ্জসহ দিরাই-শাল্লায় সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছালে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে অনেকেই নিজ নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে আসেন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ  সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পৈত্রিক বাড়ী আনোয়ারপুরের দিকে ছুটে আসেন। সময় বাড়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৫০’এর দশকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেছিলেন সেই মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং যে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপন করেছিলেন সেই দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় এবং মৃত্যুর ২ বছর আগে থেকে মৃত্যুর পূর্ব দিন পর্যন্ত যে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন সেই  সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজ ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নিজ মহল্লা আনোয়ারপুরের বাসিন্দারা বললেন, আমরা এই মৃত্যু শোক সইতে পারছি না।
আনোয়ারপুরের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বললেন,‘৪৩ বছর হয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে পরিচয়। একই মহল্লার বাসিন্দা আমরা। এই পাড়ায় যখন বউ হিসাবে এসেছি, শ্বশুর বাড়ীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় আমাকে পিতৃ¯েœহ দিয়ে আসছেন তিনি। দলীয় কর্মী এবং মহল্লার প্রতিবেশী হিসাবে আমরা যেমন সব সময় তাঁর পাশে থেকেছি তিনিও বিপদ-আপদে আমাদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন। সকালে মৃত্যুসংবাদ শুনে মনে হয়েছে। আকাশ মাথায় লেগেছে। আমরা এই শোক সইতে পারব না।’
দিরাই মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতি রঞ্জন দাস বলেন,‘এই বিদ্যালয় সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের স্মৃতি বহন করছে। তিনি এই বিদ্যালয় থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেছেন। পুরো দিরাইয়ে শোকের ছায়া নেমে আসায় আজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল কম। শিক্ষকরা সকালে এসে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের স্মৃতিচারণ করে কেবল কেঁদেছেন’।
দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়ন বলেন,‘আমরা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি মহোদয়ের কৈশোর দেখিনি। তিনি ১৯৫৯ সালে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুনেছি ঐ সময় থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। বাঙালি’র সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যু  এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যথিত করেছে’।
সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মিহির কান্তি দাস বলেন,‘সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত স্বপ্ন দেখতেন ভাটির যুব-তরুণরা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। এলাকার নারী শিক্ষার প্রসারের আকাঙ্খা ছিল তাঁর। মৃত্যুর দুই বছর আগে নিজ উদ্যোগে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজ ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত টেকনিকেল ইনস্টিটিউট করেছেন। শুক্রবারও তিনি এই দুই প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের মানবিক ও রাজনৈতিক গুণাবলী কোন ভাবেই ভুলবে না দিরাইবাসী’।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ-দৌলা তালুকদার বলেন,‘৮ বারের সংসদ সদস্য দিরাই-শাল্লাবাসীর প্রাণের মানুষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত’র মরদেহ দেখার জন্য শোকার্ত মানুষ অন্যান্য উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিরাইয়ের দিকে আসছেন। আমরা এই মৃত্যুশোক বা এই পাহাড়সম রাজনীতিকের শূন্যতা কীভাবে কাটাবা বুঝতে পারছি না’।

  • [১]