- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দিরাই-শাল্লা আওয়ামীলীগে আবারও অস্বস্তি- সুরঞ্জিতের দিরাইয়ে সক্রিয় মতিউর

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাই-শাল্লা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আবারও অস্বস্তিতে পড়েছেন। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এমপি গত প্রায় ৬ মাস ধরে অসুস্থ থাকায় দিরাই-শাল্লায় আসেননি। ৫ বারের সংসদ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত নির্বাচনী এলাকায় না আসলেও ঢাকায় থেকেই এলাকার সকল কাজ-কর্ম এবং দলের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও রয়েছে তার আগের মতোই। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়িও দিরাই উপজেলায়। গত ২৫ ফেব্রয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে মতিউর রহমান কয়েকবার দিরাইয়ে গিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর কর্মসূচিতে দিরাই বা শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পদবীধারীরা অংশ নিচ্ছেন না। বরঞ্চ স্থানীয়ভাবে মতিউর রহমানের এমন কর্মসূচি নিয়ে দলে (সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সমর্থকদের মধ্যে) অস্বস্তি চলছে। দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ হোসেন বলেন,‘তিনি (মতিউর) কেন আসেন, কোথায় আসেন, আমাদের কাউকে কোনদিন বলেননি’। অন্যদিকে, মতিউর রহমান বলেন, ‘প্রদীপ- মোশারফরা সুরঞ্জিতের অনুপস্থিতে দল ডুবাচ্ছে, এজন্যই আমি দিরাইয়ে যাচ্ছি’।
জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা আওয়ামীলীগের সঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমানের বিরোধ দেখা দেয়। এই দুই উপজেলায় তৃণমূলের সুপারিশ নিয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দলীয় প্রার্থী হিসাবে যাদের নামের তালিকা দলীয় সভানেত্রীর কাছে পাঠান সেই তালিকার বাইরে দিরাইয়ে ২ জন এবং শাল্লায় ১ জন প্রার্থীকে নৌকা পাইয়ে দেন মতিউর রহমান। দিরাইয়ে মতিউর রহমান যে দুই প্রার্থীকে নৌকা পাইয়ে দেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করে, সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের তালিকায় যাদের নাম ছিল তাদের পক্ষেই প্রচারণা চালান। নির্বাচনে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মনোনীত বিদ্রোহীদেরই জয় হয়।
এই ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে মতিউর রহমান দুইবার এবং এর পরে আরো দুইবার দিরাইয়ে যান। বুধবার দিরাইয়ে একটি কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার মাহ্ফিলের যোগদান করেন মতিউর রহমান।q
ইফতার মাহ্ফিলে মতিউর রহমানের সঙ্গে ছিলেন- সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলমগীর কবীর, জগন্নাথপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রাশিদ, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মঞ্জুর আলম চৌধুরী প্রমুখ।
মতিউর রহমানের এই কর্মসূচিতে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা আওয়ামীলীগের বা অঙ্গসংগঠনের পদধারী কেউ ছিলেন না।
দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক, দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ হোসেন বলেন,‘জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমানের দেওয়া ইফতার মাহ্ফিলের দাওয়াত যারা স্থানীয় বিশিষ্টজনদের দিয়েছে, তারা বলেছে মতিউর রহমান সাহেব ইফতার করাবেন, আপনাদের দাওয়াত, এই দাওয়াত আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বোচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কেউ পায়নি, তিনি যে আসবেন এটিও কাউকে বলেননি। তিনি কেন আসছেন, কোথায় আসেন, দলের কেউ জানে না। তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করি, দিরাই-শাল্লায় আমাদের নেতা ভাটি-বাংলার সিংহপুরুষ সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, তিনি (মতিউর) চাইলেই এখানে গ্রুপিং করতে পারবেন বলে মনে করি না আমি’।
শাল্লা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস বলেন,‘শাল্লায় মতিউর রহমান এখনো আসেননি, তাকে আসার জন্য কেউ আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানি না আমি’।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘‘ইউপি নির্বাচনে শেখ হাসিনার দেওয়া প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করে যারা বলেছে আমরা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের রাজনীতি করি, শেখ হাসিনার রাজনীতি করি না, শেখ হাসিনার মনোনয়ন আমরা মানি না, তাঁরা সুরঞ্জিতের মনোনীত প্রার্থীকেই তাদের প্রার্থী বলে, এরা আমার দাওয়াতে আসবে না, আমি সামাজিকভাবে দাওয়াত দেবার পরও এরা আসে না, যারা শেখ হাসিনাকে মানে না, আমি তাদের কমিটিও মানি না, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত অসুস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়ে দিরাইয়ে ‘হাবিল-কাবিল’ হিসাবে পরিচিত প্রদীপ (দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) মোশারফের নানা অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আমার কাছে দলীয় কর্মীরা এসেছে, আমি তাদের অনুরোধে দিরাই যাচ্ছি, আমি বলয় তৈরি করতে পারবো না বলে যারা মন্তব্য করে, তাদের বলতে চাই, আমার বলয় আওয়ামী লীগ, আমার আওয়ামী লীগে তারা এসেছে’।
দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া বলেন,‘মতিউর রহমান সাহেব সুবিধা নেওয়ার জন্য এসব বলছেন, শেখ হাসিনার রাজনীতি করি না, এমন মন্তব্য কখনোই আমরা করিনি, আমাদের দলীয় প্রধান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সিদ্ধান্তেই দল চলে, আমরা এধরণের মন্তব্য করার প্রশ্নই ওঠে না’।
দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন প্রবীণ নেতা নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে বললেন,‘দিরাইয়ে অনেকদিন ধরে আওয়ামীলীগে বিভক্তি ছিল না, দলীয় কোন্দলে এই উপজেলায় এক সময় খুনও হয়েছে। এখন আবার অস্বস্তি শুরু হয়েছে। সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে যারাই এসব করছেন, তারা আওয়ামীলীগের জন্য ভাল কিছু করছেন না’। তার মন্তব্য সুরঞ্জিত এবং মতিউর দুই জনেই দলের প্রবীণ নেতা, দলের নেতা-কর্মীদের দুইজনকেই সম্মান করতে হবে। তাদেরকেও কর্মীদের সেভাবেই ¯েœহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখতে হবে।

  • [১]