স্টাফ রিপোর্টার
ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। পাক হায়েনাদের প্রতীকী ফাঁসি, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন নানা দৃশ্য, বাঙালির লাল সূর্য পতাকা হাতে হাতে নিয়ে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা-জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বর্ণাঢ্য মিছিল শহর প্রদক্ষিণের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে মুক্ত দিবসের দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ১০ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করে শহরে মুক্ত দিবসের মিছিল বের হয়।
জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল এবং জ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধারা মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ্ খান, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুস সামাদ ডন, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী আমজাদ, মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার নুরুল মোমেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাসিম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভিশন-২০২১’ অর্থাৎ ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। সে সময়ে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, সমৃদ্ধ দেশ। আর ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে আমরা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হব, ইনশাল্লাহ আমরা সেটা অর্জন করতে পারবো, সে বিশ্বাস আমাদের আছে। কারণ, আমরা এখন যেটা করে যাচ্ছি তা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য। শুধু বর্তমান নয়, আমাদের ভবিষ্যতকে দেখতে হবে। শুধু আজকে নয়, আমরা আগামী দিনকে দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন কাজ করছেন। সামাজিক উন্নয়ন সূচকেও পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশের থেকে আমাদের দেশের অবস্থান অনেক ভালো।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্ম্পকে না জানালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আজ আমরা এই সোনার বাংলায় শান্তিতে দিন কাটাতে পারছি। এই বিজয়ের মাস উদযাপন করতে পারছি। বিজয়ের মাস হলো স্বপ্ন দেখার মাস।’
আলোচনা সভা শেষে দেশাত্ববোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদর জনাব বিশ্বজিত দেব।
এছাড়া সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই ডিএস রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সুনামগঞ্জ পৌরসভা, জেলা ছাত্রলীগ, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, প্রথম আলো বন্ধুসভা, জেলা উদীচী, জেলাঘর, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, রক্তদান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিশ্বজন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহর হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমা শহর ছেড়ে পিছু হটে পাকবাহিনী। হানাদার মুক্ত হয়ে সুনামগঞ্জ শহর ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে মুখরিত হয়। সুনামগঞ্জ শহরের প্রতিটি এলাকার ঘরে ঘরে ওড়ে স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকা। সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবসের দিনেই সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রনেতা মুক্তিযোদ্ধা তালেব উদ্দিন আহমদসহ ৩ মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালায় পাক হায়েনারা।
জেলা ছাত্রলীগ
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে র্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পন এবং আলোচনা সভা করেছে জেলা ছাত্রলীগ। বুধবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এরপর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রলীগৈর যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল হক কিরণ, দীপঙ্কর কান্তি দে, জিসান এনায়েত রেজা, সদস্য আশিকুর রহমান রিপন, ফয়সল আহমদ চৌধুরী।
এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য অভিজিৎ চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সামিয়ান তাজুল, উপ প্রচার সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, পরিবেশ সম্পাদক মনসুর আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ওয়াসিম আহমেদ, গৌতম তালুকদার, আশরাফুল আলম, মীবুন দাস, অমিয় মৈত্র, জুনায়েদ আহমদ, বিপ্লব দে, দিপ্ত বণিক, জাবেদ রহমান, আরমান, অপি, সাজ্জাদ হোসেন, ফয়সল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
ছাত্র ইউনিয়ন
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস ও শহীদ তালেব উদ্দিন আহমদ স্মরণে সভা করেছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন। সকাল ১০টায় কলেজ সংসদের সভাপতি সুকান্ত দত্তের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ মনির পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, কলেজ সংসদের সাবেক সভাপতি দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য, সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় কর, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নিমাই সরকার, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্পাদক নাজনীন আনছারী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত দাস, সম্পা তালুকদার, মো. মনির হোসেন প্রমুখ।