- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দুঃশ্চিন্তায় জেলার ক্ষৌরকাররা

স্টাফ রিপোর্টার
থমকে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। বন্ধ হয়ে গেছে কাজ। রোজগার না থাকায় বিপাকে পড়েছে সুনামগঞ্জের ক্ষৌরকাররা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে সবাইকে। সেলুনগুলোতে ক্ষৌরকার আর খদ্দেরের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও কোন কোন পাড়ায় দুই একটি সেলুন খোলা আছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে লকডাউনের কার্যকারিতা কিছুটা শিথিল করা হলেও সেলুনগুলোতে খদ্দের নেই। অলস সময় পার করছেন ক্ষৌরকারেরা। এতে চরম অর্থনৈতিক সমস‍্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

জানা যায়, গত ২৫ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের কারণে দুর্দিনের শুরু ক্ষৌরকারদের। পৌর শহরের প্রায় সবগুলো সেলুন বন্ধ হয়ে যায়। মানুষজনও সংক্রমণের ভয়ে সেলুনে আসা বন্ধ করে দেয়। মাস শেষে সেলুন ভাড়া দেয়ার চাপ, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, সংসার চালানোর দুশ্চিঃন্তায় তারা পড়েছেন চরম বিপাকে ক্ষৌরকাররা। সেলুন মালিক কোন মতে সংসার চালাতে পারলেও সেলুনের কর্মীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। পৌর শহরের বিলপাড়, মুক্তারপাড়া, ওয়েজখালী, বাসস্ট্যান্ড, সদরগড়, সোমপাড়া নতুনপাড়ায় সেলুন বন্ধ রয়েছে। দুশ্চিন্তার ভাজ পড়েছে তাদের কপালে। এই পরিস্থিতি আরো দীর্ঘ সময় সামাল দিতে হবে কী না এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

পৌর শহরের মুক্তারপাড়ার ক্ষৌরকার নিমর্ল চন্দ্র বলেন, ২৫ মার্চ থেকে সেলুন বন্ধ। হাতে টাকা নাই। খাইতাম পাররাম না। কিন্তু সেলুন ভাড়া মাফ নাই। সব সেলুনের একই অবস্থা। ভাড়া ছাড়া মানে না মালিকে। ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে আধপেটা খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমার মতো আমার সকল ক্ষৌরকার ভাইয়েরাই একই সমস‍্যার সন্মুখীন এই মূহুর্তে।

তিনি বলেন, সেলুন খোলা থাকলে হাতে টাকা আসতো। সেলুন বন্ধ তাই হাতে টাকাও নাই। কাজ কাম ছাড়া দিন কাটের। সামনের দিনগুলোতে কি করবেন এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন নিমর্ল চন্দ্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেলুন কর্মী বলেন, অন্য কোনো কাজও পারি না। মাসের উপর হয়ে গেল বসে আছি। এ বিপদে যতদিন উদ্ধার না হই, ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করার নেই। মালিকও কোনো সহযোগিতা করেননি। সামনে কী হবে কিছুই জানি না।

ওয়েজখালির উৎপল চন্দ বলেন, সেলুন খুলছি, কিন্তু মানুষ আসে না। হঠাৎ এক দুইজন আসে। সমস্যার মধ্যে আছি আমরা।

ক্ষৌরকার সংগঠনের সভাপতি বিলপাড়ের বাদল সরকার বলেন, আমাদের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। দোকান বন্ধ। রোজগার নাই। কিন্তু দোকান ভাড়া দিতে হয়। পরিবার আছে। অভাব অনটনে চলছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে কেউ কেউ কিছু সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আমাদের রোজগারের পথ না খুললে কী হবে জানি না।

তিনি বলেন, কেউ কেউ প্রাইভেটে বাড়িতে গিয়ে কাজ করছে। কিন্তু এতে তার ও পরিবারে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

  • [১]