- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দুঃসময়ে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসা

পুলক রাজ
করোনা দুর্যোগের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সকল প্রকার সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ বললেই চলে। নেই সাংস্কৃতিক কোনো আয়োজনও। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশও থামিয়ে দিয়েছে এই করোনা। তাই ভীষণ দুঃসময় যাচ্ছে ডেকোরেটর, মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দেয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রেকর্ডিং ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসা। কাজ না থাকায় মাসে মাসে লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায় মন্দাভাব না কাটায় সংশ্লিষ্টরা পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাতো দূরের কথা, নিজেদের টিকে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। রোজগারের আশায় অনেকে এই ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাচ্ছে।
পৌর শহরের রফিক সাউন্ড সিস্টেম, কথা সাউন্ড সিস্টেম এন্ড মাইক, মনির সাউন্ড সিস্টেম, বিজলী সাউন্ড সিস্টেম, পূজা মাইক, মালা মাইকসহ ছোট বড় আরও কিছু সাউন্ড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু ব্যবসা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার প্রার্দুভাবে দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখোমুখি তারা। দীর্ঘমেয়াদী এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সহজ হবে না।
পশ্চিম বাজার, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া, জামাইপাড়া, নতুন বাসস্টেশনের সাউন্ড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, বিয়ে ও বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে সরকারের অনুমতি না থাকায় তাদের বেকার বসে থাকতে হচ্ছে।
সাউন্ড ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বে মিছিল মিটিং, বিয়ে, ওয়াজ মাহফিল, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি লাগতো না। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাসের জন্য সব বড় অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতিও মিলছে না। কাজে ফিরতে না পেরে আশাহত অনেকেই পেশা বদল করেছেন।
রফিক সাউন্ড সিস্টেম মালিক মো. দুলাল মিয়া বলেন, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে আমার সাউন্ড ব্যবসা থেকে আয় শূণ্যের কোঠায়। এর মধ্যে কয়েক মাস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিয়েসহ নানা ধরনের বড় বড় অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ায় কম বেশী ব্যবসা করতে পেরেছি। করোনা সক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবার সব ধরণের বড় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আগে মিছিল, মিটিং, বিয়ে, জন্মদিন, শহরে প্রায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকতো। এজন্য প্রচারণায় মাইক এবং সাউন্ড সিস্টেম নেওয়া হতো গান বা নাটকের জন্য। এসব প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়াতে ব্যবসায় ধস নেমেছে। কর্মচারিদের বেতন দিতে পারছি না। দোকান ভাড়াও নিজের জমানো টাকা থেকে দিতে দিতে, এখন সংসার চালাতেই হিমমিম খাচ্ছি।
কথা সাউন্ড সিস্টেম এন্ড মাইক ব্যবসায়ী মো. মোকাব্বির আলী বলেন, এরকম অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। বিয়ে, মিছিল, মিটিং, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিলে আমাদের জন্য একটু উপকার হবে।
মনির সাউন্ড সিস্টেম এন্ড মাইক মালিক বলেন, ব্যবসা একদম মন্দা চলছে। প্রতিবছর ভালোই ব্যবসা হতো কিন্তু এই দেড় বছর যাবৎ সাউন্ডের ব্যবসা নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ভালো টাকা রুজি করা যেতো, বড় বড় অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ নিজের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

  • [১]