- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দুই’শ নলকূপে পানি উঠে না, বিপাকে ১১ গ্রামের মানুষ

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের দুই শতাধিক অগভীর নলকূপে পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ১১ গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা। পুকুর ও বিলের পানি ফুটিয়ে ফিটকিরি দিয়ে পান করছেন তাঁরা। বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, বানীপুর, কোনাগাঁও, ঢালাগাঁও, নলুয়া, বাঘমারা, তেরাপুর, বেরীগাঁও, পার্বতীপুর, ষোলঘর, ভৈষারপাড় এলাকায় অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না অনেক দিন ধরে।
দুই বছর আগে তেরাপুর এলাকায় সোলার সেচ পাম্প (ডীপ কল) স্থাপন করা হয়। ওই সময় থেকে সাধারণ নলকূপে পানি উঠার সমস্যা শুরু হয়। এবার শুকনো মওসুম শুরু হতেই নলকূপে পানি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে সামান্য পরিমাণে পানি উঠে। এই পানিতেও রয়েছে আয়রন। পানি নিলে গ্লাস লালচে হয়ে যায়। এই কারণে পানি ব্যবহার করতে পারছেন না এসব গ্রামের বাসিন্দারা।
বৃৃহস্পতিবার সকালে কৃষ্ণনগর গ্রামের চিকিৎসক ডা. রৌশন ইসলাম, মনির হোসেন, ইমান হোসেন, ইউসুফ আলী, সিদ্দিকুর রহমান, রুহুল আমিনসহ অনেকে জানান, এলাকার প্রায় সবকয়টি অগভীর নলকূপে পানি উঠা বন্ধ হয়ে গেছে। এই কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পুকুর ও বিলের পানি ফুটিয়ে ফিটকিরি দিয়ে খাবার পানি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশিরভাগ পরিবারে। সাংসারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুকুর ও বিলের পানি। একারণে পেটের পীড়া, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
বাঘমারা গ্রামের মতিউর রহমান, মুহাম্মদ আলী, আব্দুল বারীকসহ অনেকে জানান, তাঁদের এলাকায় অগভীর কোনো নলকূপে পানি উঠছে না। পুকুরের পানি ফুটিয়ে খাবার পানি হিসাবে ব্যবহার করছেন তাঁরা।
তেরাপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া ও বাচ্চু মিয়া জানান, কোনো কোনো নলকূপে সামান্য পরিমাণে পানি আসলেও আয়রনের কারণে এই পানি পান করা যায় না। নিমিষেই কাচের গ্লাস লালচে হয়ে উঠে।
পার্বতীপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়া, জালাল মিয়া এবং নলুয়া গ্রামের আব্দুল জলিল, মর্তুজ আলী, লিয়াকত মিয়া জানান, তেরাপুর এলাকায় সোলার সেচ পাম্প (ডীপ কল) চালু করার পর থেকে নলকূপে পানি উঠতে সমস্যা করছে।
বানীপুর গ্রামের মোস্তাক মিয়া, মুজিবুর রহমান, আব্দুর রশিদ একই দুর্ভোগের কথা জানান।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকায় খাবারের বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পানি ব্যবহারে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের অগভীর নলকূপে পানি উঠছে না। এই সমস্যা সমাধানে এলাকায় গভীর নলকূপ (ডীপ কল) স্থাপন জরুরি প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, বছরের পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পর্যন্ত পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠে না। বৃষ্টি হলে অবশ্যই পানি উঠবে। ওইসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যেতে পারে। আমরা প্রতি ইউনিয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৫২টি করে গভীর নলকূপ দিয়েছি।

  • [১]