বিশেষ প্রতিনিধি
ছাতক-সুনামগঞ্জ রেলপথে আবারও সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেওয়া লকডাউনের কারণে বেশ কিছুদিন সম্ভাব্যতা যাচাই স্থগিত থাকার পর আবারও সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রায় ৬৬ বছরেরও আগে (১৯৫৪ সালে) সুনামগঞ্জের থানা শহর ছাতক পর্যন্ত রেললাইন এসেছে। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলা শহর এখনো যুক্ত হয় নি রেল লাইনের সঙ্গে। সুনামগঞ্জের উৎপাদিত ধান, সবজি, মাছ, পাথর কম পরিবহন খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর জন্য রেলপথের দাবি বহুদিনের। ১৯৬১ সালে হাসননগরের বাসিন্দা তৎকালীন সিলেট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সদস্য রাবেয়া লেইস প্রথম ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের সভায় এই দাবি তুলেছিলেন। এরপর ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেয়। ২০১৪ সালে রেলমন্ত্রী, রেল সচিবকে এই বিষয়ে অনুরোধপত্র পাঠান সুনামগঞ্জের সন্তান তৎকালীন পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ এই বিষয়ে সংসদে কথা বলেন, অনুরোধপত্রও দেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানও সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার পাঠান।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে এর পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ-ছাতক রেল লাইনের সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরপরে একাধিকবার সুনামগঞ্জ-ছাতক রেললাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয় হয়।
২০২০ সালের জুলাই মাসে আবার রেলওয়ের পক্ষ থেকে মজুমদার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজে নিয়োগ করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ছাতক- দোয়ারা-সুনামগঞ্জ এবং গোবিন্দগঞ্জ-শান্তিগঞ্জ-সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মজুমদার এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই দিকেই সম্ভাব্যতা যাচাই করে মতামত দিতে বলা হয়েছে। পরামর্শত প্রতিষ্ঠানের এই মতামত চূড়ান্ত আকারে পাওয়া গেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হবে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনদিকে রেলপথ হবে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আরিফ জানান, ছাতক-সুনামগঞ্জ রেলপথের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। লকডাউনের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম কয়েকদিন স্থগিত ছিল। এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রম শেষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মতামত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হবে। তারা পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।