দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের পশ্চিমপাশে আহসানমারা নামক স্থানে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুই বছর আগে একটি ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য’ নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ভাস্কর্যটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে।
একইভাবে দেড় বছর আগে উপজেলা সদরের শান্তিগঞ্জ বাজারের সিলেট-সুনামগঞ্জ মহা সড়কের দক্ষিণ পাশে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু এটির কাজ শেষ হয়নি। নি¤œ মানের কাজের জন্য ভেঙে যাচ্ছে এটিও। শহীদ মিনারে করা হয়নি রং, সাজানো হয়নি বেদি।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ মহা সড়কের পশ্চিম পাশে আহসানমারা নামক স্থানে গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালেবের স্মৃতি ধরে রাখতে ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য’ নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, ভাস্কর্যটি ভেঙে যাচ্ছে; ঠিকাদারের নি¤œ মানের কাজ হওয়ায় এঘটনাটি ঘটেছে। তারা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত জেলা পরিষদের কাউকে ও ঊর্ধ্বতন কর্তাদের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তারা আরও বলেন, এ স্থাপনাটি অরক্ষিত ভাবে রাখা হয়েছে, উৎসুক লোকজন বিভিন্ন সময় এই ভাস্কর্যটির উপরে উঠে সেলফি ও ক্যামেরায় নিজের ছবি তোলেন। দিনে-রাতে এখানে অনেক বখাটেদেরও বসে থাকতে দেখা যায়।
অপরদিকে
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সদরের শান্তিগঞ্জ বাজারস্থ সিলেট-সুনামগঞ্জ মহা সড়কের দক্ষিণ পাশে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ না করে দায়সারা গোছের কাজ করে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছেন। স্থানীরা বলছেন, মহান বিজয়ের মাসে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির এ অবস্থা মানা যায় না। ঠিকাদার ১ বছর আগে কাজ ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ করেনি। এ কাজটি মান সম্মত হয়নি। নি¤œ মানের কাজ হওয়ায় এটিতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মহান শহীদ তালেব’র স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য’ টির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জের নতুন পাড়ার মেসার্স সুমন কুমার দে’র স্বত্তাধিকারী সুমন কুমার দে বলেন,‘ আমি কাজটি পাওয়ার পরে অনেক টেকসই ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছি। এস্টিমেটের বাইরেও আমি অনেক কাজ করেছি।’ তিনি বলেন,‘গত বৈশাখ মাসে বজ্রপাতে স্থাপনাটির কিছু ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু মূল স্ট্রাক্চারের কোন ক্ষতি হয়নি।’ তিনি বলেন, জেলা পরিষদ এ স্থাপনাটি অরক্ষিতভাবে রেখেছে।’ তিনি আরও জানান, আমি কাজ শেষ করার পরও তারা আমার জামানত ও বিলের টাকা পরিশোধ করেনি।
উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইদ এন্ড কোং এর স্বত্তাধিকারী মো. আবু সাইদ বলেন,‘ শহীদ মিনারটি দুই ধাপে কাজ করা হয়েছে। আমি যে ওয়ার্ক অর্ডার ও এস্টিমেট পেয়েছি তাই করেছি। তবে জেলা পরিষদ শহীদ মিনারটির কাজ শেষ করতে পারে নি। তারা অসম্পন্ন অবস্থায় রেখেছেন। আমাদের বলেছেন, কোন বরাদ্দ পেলে তারা বাকি কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে করাবেন। ’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান বলেন,‘বিজয়র মাসে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেহাল দশা ও নি¤œ মানের কাজের কারণে ভেঙে যাওয়া কোন ভাবেই মানা যায় না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বা মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ রাখতে যে ভাঙ্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটার অবস্থা দেখলে মনে হয়, এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। ’
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সূর্যসেন রায় এ প্রতিবেদককে বলেন,‘৭-৮ মাস আগে বজ্রপাতে ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য’ টিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানত আমাদের কাছে রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে যেন তারা এটি মেরামত করে দেন। অপরদিকে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টাইলস লাগানোর কথা ছিল না, আমরা এভাবে রেখেছি যেন কোন বরাদ্দ পেলে আমরা টাইলস লাগাতে পারি। তবে শহীদ মিনারে ভাঙনের খবর জানি না, এ বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব। এ কাজটিরও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জামানত আমাদের কাছে রয়েছে।’