এনামুল হক, ধর্মপাশা
মধ্যনগর বাজার ও পিঁপড়াকান্দার দূরত্ব কয়েকশ মিটার। তবে মাঝখান দিয়ে উবদাখালী নদী বয়ে চলায় পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ফেরি। ফেরি ঘাটে পৌঁছেই ফেরী পাওয়া গেলে ৫/৭ মিনিটে পৌঁছা যায় এপাড় থেকে ওপাড়ে। কিন্তু একবার ফেরি ওপাড়ে চলে গেলে নতুন করে যাত্রী নিয়ে ফিরে আসতে সময় লাগে আধা ঘন্টারও বেশি। সেতু না থাকায় ধর্মপাশা-মহিষখলা সড়কের মধ্যবর্তী উবদাখালী নদী পার হতে গিয়ে জরুরি মূহুর্তে পথচারীদের যেমন সীমাহীন ভোগান্তীতে পড়তে হয় তেমনি এ সড়কের সুমেশ্বরী (কায়েতকান্দার পিছগাঙ্গা) নদীতেও সেতু না থাকায় সেখানেও ফেরি পার হতে গিয়ে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
উপজেলা সদর থেকে উত্তরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহিষখলাসহ আশপাশের মানুষজন উপজেলা সদরে এসে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় রাত হয়ে গেলে পড়েন বিপাকে। রাতে নির্ধারিত সময়ে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদেরকে বাধ্য হয়ে কারও বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় কিংবা উল্টো ফিরতে হয় ধর্মপাশায়। ধর্মপাশায় ফিরেও খোঁজা হয় কোনো আত্মীয়র বাড়ি। আত্মীয় পাওয়া না গেলে আবাসিক হোটেল শেষ ভরসা। এতে করে ওই সকল মানুষদের সময় ও অর্থ দুটোরই মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। ফলে ওই দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি তুলেন উপজেলাবাসী। আর এমন দাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রচেষ্টায় সেতু নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি ওই দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের (সিআইবিআরআর) আওতায় ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর উবদাখালী নদীর ওপর ৪৭ কোটি ৮২ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে ৩২০ মিটার এবং সুমেশ্বরী (কায়েতকান্দার পিছগাঙ্গা) নদীর ওপর ৪১ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২২১ টাকা ব্যয়ে ৩১০ মিটার দৈর্ঘের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী বছরের ৮ জুন সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এ পর্যন্ত উবদাখালী সেতুর ৫০ ভাগ ও কায়েতকান্দা সেতুর ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ বছরের প্রত্যাশিত দুটি সেতু মধ্যনগরসহ হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যে সুযোগ সুবিধা তৈরি করবে তা বলে শেষ করা যাবেনা। পাশাপাশি আমরা মধ্যনগর থেকে মহিষখলা সড়কেরও উন্নয়ন চাই।’
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘সেতু দুটি জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি উপজেলার অভ্যন্তরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইল ফলক তৈরি করবে।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এখনও উপজেলা সদরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাই। সেতুগুলো উপজেলা সদরের সাথে দূরত্ব কমিয়ে দিয়ে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করে তুলবে।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘পুরোদমে সেতু দুটির নির্মাণ চলছে। আশা করা যায় নির্ধারিত সময়েই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।’
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘সেতু দুটি নির্মাণ হলে মহিষখলা, টেকেরঘাট, যাদুকাটা, লাউয়েরগড় হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে ধর্মপাশার যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হবে। যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণধীন সেতুসহ প্রতিটি সেতুই পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। কাজ যথাযথভাবে শেষ হলে আগামী বছরেই ওই (মধ্যনগর ও কায়েতকান্দা) সেতু দুটি উদ্বোধন করে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’