স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং হাওরের ফসলরক্ষায় নদী, খাল ও বিল খননের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’ সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ৯০ শতাংশ বোরো ধান অকালে তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলের লাখো কৃষক পরিবারে চলছে হাহাকার। রাষ্ট্রপতি ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। হাওরের এই ফহলহানির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি দায়ী। ফসলহারা কৃষকদের বাঁচাতে সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে হাওর ফসলরক্ষায় জেলার সকল নদী খনন করতে হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষকদের বিনামূল্যে ত্রাণ সহায়তা প্রদান ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ওএমএস-এর চাল-আটা বিক্রি চালু। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসহ এনজিও সংস্থার ঋণ ও কিস্তি আদায় স্থগিত
রাখার নির্দেশ। সকল কৃষি ঋণ মওকুফ, সুদমুক্ত নতুন কৃষি ঋণ প্রদান ও আগামী বোরো মৌসুমে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ প্রদান। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি খাজনা আদায় স্থগিত করা ও হাওরের ভাসান পানিতে মাছ ধরার সুযোগ করে দেয়া। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষক পরিবারকে রেশন কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান। হাওরের ফসল রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, সাবেক সাংসদ মো. আবদুল মজিদ, সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক বিজন সেন রায়, সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীর, অ্যাড. মো. মাসুক আলম, অ্যাড. রুহুল তুহিন, অ্যাড. মো. শেরেনুর আলী, অ্যাড. জয়ন্তী দেব, কৃষক আবদুল কাইউম, কৃষকনেতা রুহুল আমিন, ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’ এর সদস্য মাহবুব হোসেন পীর, মাসুম হেলাল, একে কুদরত পাশা, নাট্যকর্মী মো. রাজু আহমেদ, প্রদীপ পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিল।
এর আগে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে একই দাবিতে সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। একই দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা।