দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের দুই মেম্বারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। টিআর প্রকল্পের এই দুই প্রকল্পে আর্থিক সংশ্লেষ ছিল ১,১০,২৩২ টাকা ও ১,৫০,০০০ টাকা। মেম্বার দুইজন কোন কাজ না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন, অভিযুক্তদের টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য থেকে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে ধারণা পেতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই অবস্থা শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নের একটি মাত্র ওয়ার্ডেÑ এমনটি ভাবলে ভুল হবে। বরং বলা চলে আমাদের তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের এটি স্বাভাবিক চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের অবস্থা আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবল করার বদলে ব্যাপকভাবে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সম্প্রতি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেনটেশন কমিটি (পিআইসি) গঠনে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিগণের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার সংবাদে আসলে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বাস্তবতা এতোটাই খারাপ যে, এখন সরকার তাদেরকে ক্ষমতায়ন করাটা বিপজ্জনক মনে করছেন। জনপ্রতিনিধিদের এমন দুর্নীতিগ্রস্ত অবস্থায় সুশাসন ও স্বচ্ছতার জায়গাটিই কেবল সংকুচিত হয়। আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বাড়ে, যে আমলাতন্ত্রের সাথে জনগণের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই। এরকম অবস্থায় স্থানীয় সরকারসহ জনপ্রতিনিধিত্বের সবগুলো জায়গায় একটি বড় ধরনের পুনর্জাগরণ প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু সেরকমটি হওয়ার কোন লক্ষণ নেই। এর অর্থ হলো আমাদের জনপ্রতিনিধিত্বকেন্দ্রীক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া যা সমাজ-রাষ্ট্রের জন্য কখনও মঙ্গলজনক নয়।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের অন্য একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জমালগঞ্জের উন্মুক্ত জলাশয় বল হাওরে জেলে-কৃষকদের মাছ ধরায় অবৈধভাবে বাধা দিচ্ছেন কিছু ব্যক্তি। বাধাদানকারীরা দাবি করছেন তারা এই হাওরটি ইজারা পেতে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে জেলা কমিটির পরবর্তী সভায় তাদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ইজারাদার এমন নিশ্চয়তা কীভাবে এবং কোথায় পেলেন যে, জেলা কমিটির সভায় তাদের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, এটি আমাদের বোধগম্য নয়। এছাড়া তারা বৈধ ইজারাদার হয়ে জলাশয়ের দখল বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত এখানে মাছ ধরায় কাউকে বাধা দিতে পারেন না। এটি তাদের এক্তিয়ার বহির্ভূত। কিন্তু এই এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করা থেকে অনুমিত হয় যে, বাধাদানকারীরা প্রভাব-প্রতিপত্তিতে বেশ অগ্রসর। কিন্তু এবার শতভাগ বোরো ফসল হানির কারণে যেখানে সকল জলাশয়ে মাছ মারার অধিকার দাবি করে ব্যাপক জনমত গঠিত হযেছে সেখানে এখন পর্যন্ত উন্মুক্ত জলাশয়ে জেলে-কৃষকদের মাছ ধরায় বাধা দিয়ে তারা নিশ্চিতভাবেই অন্যায় কাজ করেছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জের ঘটনাগুলো আসলে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এগুলো হলো আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজবাস্তবতার কিঞ্চিৎ নিদর্শন মাত্র। আমরা এরূপ অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে চাই। উত্তরণ পেতে হলে অন্যায় যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনের পক্ষপাতহীন আচরণ অভিপ্রেত। আমরা উভয়ক্ষেত্রেই তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ কামনা করি।