- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দুর্নীতিবিরোধী বাণী ও কাকস্য পরিবেদনা

বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে অমাত্যবর্গের মুখ থেকে খুব ভালো ভালো বাণী শোনা যায়। এই ধরনের বাণী শ্রবণে যুগপৎ আশা ও আনন্দে সকলের মন ভরে উঠার কথা। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা হলোÑ কখনও এমনটি হয় না। মুখের মধুর বুলি বাতাসে মিলিয়ে যেতেই বাস্তবের নির্মমতার কাছে হার মানা মানুষ যথা পূর্বং তথা পরং হয়েই দিনাতিপাত করেন। ভোরের সূর্যোদয়ের মতো নতুন কোনো দিবসের সূচনার আশা জাগানিয়া উপলক্ষ হয়ে আসে না এইসব কথা। তাই বিশেষ দিবসের সুবিমল কথামালা নিছক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে তেমন কোনো মহিমা ছড়াতে নিতান্তই অসমর্থ প্রমাণিত হয়েছে। মুখের কথায় কথক যদি বিশ্বাস স্থাপন করতেন, কথাগুলো যদি হতো যাপিত জীবনের মর্মবেদনা উপলব্ধি করে তাতে প্রলেপ লাগানোর মহৌষধ; তাহলে কথাগুলো বিশেষ অর্থদ্যোতকতা নিয়ে সকলের সামনে হাজির হতো। তা তো হওয়ার নয়। তাই ক্ষণিকের কর্ণপ্রশান্তির উপকরণ হিসেবেই এসব কথামালা বুদ্বুদের ন্যায় অস্তিত্বমান হয়ে থাকে কেবল।
শুক্রবার মহাসমারোহে দেশব্যাপী পালিত হয়ে গেলো দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস। এই একটি নিরীহ শব্দের কাছে নতজানু হয়ে আছে পুরো জগৎ সংসার, সভ্যতা ও উন্নয়ন-অগ্রগতি। ঘুনপোকার মতো এই্ অনুষঙ্গ ভিতর থেকে পুরো সমাজকাঠামোকে খুবলে খুবলে খেয়ে ফেলে। সামান্য স্পর্শাঘাতেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ওই কাঠামো। আমরা যে সমাজ-রাষ্ট্রে বসবাস করছি তা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করা হলেও এবং অভ্যূদয়ের পিছনে আরও বহু আকাক্সক্ষার সাথে দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা কায়েম করার মহান আদর্শ লালন করা হলেও নির্ভেজাল সত্য হলো এইÑ দুর্নীতি দূর করা দূরস্ত বরং অক্টোপাশের মতো দুর্নীতি যেন আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। এখন যার সামান্য সুযোগ আছে সেই এই দুর্নীতিকা-ের শীর্ষবিন্দুতে উঠতে চায়। এই কা-ের যত উপরে যে অবস্থান করতে পারে তার ঠাটবাট বেশি, তার সম্মান হয় অতুলনীয়, তিনি হন সকলের প্রণম্য। এমন এক সমাজে বসবাস করে যখন অমাত্যবর্গের কোনো প্রতিনিধি দুর্নীতিবিরোধী কিছু কথা টিয়াপাখির মতো আওড়াতে থাকেন তখন বিষয়টি হয়ে উঠে সবচাইতে বড় কৌতুক, নির্মম উপহাস এবং স্ববিরোধিতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ওই দিবস উপলক্ষে এমন কিছু কথাই আমরা শুনতে পেয়েছি এতদুদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায়।
কথায় আছেÑ আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলেন তখন তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন না বলে রক্ষা। থাকলে দেখতেন, আয়নার ওপাশে ভেসে উঠা অবয়বটি দাঁত কিলবিলিয়ে অট্টহাসি করছে আর বলছেÑ সাবাস ব্যাটা, এই না হলে চোরের মার বড় গলা। আসলে বড় কষ্টে আছে এই দেশের সাধারণ মানুষ। তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি নামের জোঁক রক্ত খেয়ে চলেছে আর রক্ত দিতে দিতে ওই মানুষটিকে এমন বাণীও শুনতে হচ্ছে নিয়মিতই। অথচ সর্বত্র বিরাজিত মহাক্ষমতাধর দুর্নীতি-মহাশয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উচ্ছেদ করার জন্য আপামর জনসাধারণ প্রতিটি মুহূর্ত কতই না আরধনা করে চলেছেন। এই আরাধনা পূর্ণতা পেতে পারে অমাত্যবর্গকে ‘কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হওয়ার’ কুশেশ করলে। যত দুর্নীতিই হোকÑছোট বড় বা মধ্য; কোনো কিছুই সংঘটিত হতে পারে না ওই মহোদয়গণের আনুকূল্য ছাড়া। তাঁদের পরিবর্তন কথায় হতে পারে না, দরকার এমন এক কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার যেখানে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। সম্পদের হিসাব দাখিলের বাধ্যবাধ্যকতা পরিহারে এই শক্তিমান অংশের প্রবল বিরোধিতা ও সফলতা ওই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে কেবল দূর থেকে আরও দূরে নিয়ে যায় কেবল। তবুও সকলেই স্তবমন্ত্রের মতো জপ করেনÑ কবে প্রতিষ্ঠা হবে সেই বহুল আরাধ্য কাঠামো?

  • [১]