- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দুর্গম হাওরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি রক্ষায় চালু হলো জাদুঘর

এনামুল হক, ধর্মপাশা
১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দূর্গম হাওরপাড়ের গ্রাম রাজাপুরে নির্বাচনী সফরে এসেছিলেন। সেখানে তিনি রাজাপুরের তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মহারাজা মিয়া চৌধুরীর বাড়ির যে বাংলোঘরে বিশ্রাম ও নির্বাচনী সভা করেছিলেন সে বাংলোঘরকে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বাড়িতে ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর’ ও ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণা’র উদ্বোধন করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের জন্য বই প্রদান করা হয়।
বঙ্গবন্ধু যেদিন রাজাপুর এসেছিলেন সে দিনটি ছিল শুক্রবার। জুমার নামাজের আগেই ওইদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লঞ্চে করে নির্বাচনী সফরে রাজাপুর গ্রামে পৌঁছান। লঞ্চ ঘাটে পৌঁছালে রাজাপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মহারাজ মিয়া চৌধুরী লঞ্চে উঠে বঙ্গবন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় করেন। খবর পেয়ে হাওরপাড়ের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে একনজর দেখতে ভীড় জমাতে থাকেন। মহারাজ মিয়ার বড় মেয়ে শেহেলী চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর বঙ্গবন্ধু মহারাজ মিয়া চৌধুরীর বাড়িতে অবস্থিত রাজাপুর বড়হাটি জামে মসজিদে (রাজাপুরের প্রথম মসজিদ) সফরসঙ্গীদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে বঙ্গবন্ধু মহারাজ মিয়া চৌধুরীর বাংলোঘরে বিশ্রাম নেন এবং দুপুরের খাবার শেষে হাওরবাসীর সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন। এতে মহারাজ মিয়া চৌধুরী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বাড়ি, বাংলোঘর ও মসজিদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। তখন মহারাজ মিয়া

বাংলোঘর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ বাড়ি ও বাংলোঘর রাজাকারেরা দখল করে নেয় এবং বাংলোঘরের ক্ষতি সাধন করে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে মহারাজ মিয়া বাড়ি ফিরে বাংলোঘরটি সংস্কার করেন এবং তিনি তাঁর সন্তানদের বাংলোঘরটি সংরক্ষণ করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। ১৯৮৯ সালে মহারাজ মিয়া চৌধুরীর মৃত্যু হলে তাঁর সন্তানেরা বাংলোঘরটি সংরক্ষণ করে আসছেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় সেই মসজিদের অবকাঠামো আজও পরিবর্তন করা হয়নি। যদিও হাওরের পানির তোড়ে ভাঙনের কবলে পড়লে একাধিকবার মসজিদটি সংস্কার করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওই বাড়িতে এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক শাহ আব্দুল বারেক ছোটনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তরিকুল ইসলাম পলাশের পরিচালনায় বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম মাহবুবুল হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ অপু, উপজেলা আওমী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা প্রমুখ।


মহারাজ মিয়া চৌধুরীর দ্বিতীয় ছেলে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন আমি তখন অনেক ছোট। আব্বার মুখে সেদিনের বিবরণ শুনে বড় হয়েছি। আব্বার নির্দেশ ছিল যেন আমাদের বাংলোঘর সংরক্ষণ করে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখা হয়। আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আব্বা বন্ধুর বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষার্থে বাংলোঘরটি সংস্কার করে ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’ নামকরণ করেছি। আজ আমার গর্বের শেষ নেই।’

  • [১]