- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দেবে গেছে মাটিয়ান হাওরের একটি বাঁধ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের আনন্দনগর গ্রামের পূর্বপাশের বেড়িবাঁধটি স্থানে স্থানে দেবে গেছে। শনিবার রাত ৯টায় আনন্দনগর গ্রামবাসী তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে রাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কাজের সভাপতি ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রাতভর বাঁধে মাটি ফেলা ও বাঁশ স্থাপনের পর বাঁধটি ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পায়।
ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প সভাপতি জিলিম মিয়া বলেন, মাটিয়ান হাওরের ৪৪ নং প্রকল্প কাজের তিনি সভাপতি। বাঁধটিতে শুধু মাটি ফেলার জন্য তাকে ১৫ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রাক্কলন ও ডিজাইন মোতাবেক তিনি কাজটি যথাসময়ে সমাপ্তি করেন। কাজের তদারকি কর্মকর্তা সরজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণ কাজের প্রশংসাও করেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুরে কর্মরত শাখা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের কোন ত্রুটি ছিল না। বাঁধের মাটি যেভাবে ফেলা হয়েছে বর্তমানেও সেভাবেই আছে। এছাড়া বাঁধটিতে শুধু মাটি ফেলার কাজ ধরা হয়েছিল। বাঁশ পাইলিং ও বস্তা সেটিং ধরা হয়নি। বাঁধের উত্তর দিকে একটি বড় ধরনের গর্ত ছিল। গর্তের পানি সেচ করে আনন্দনগর গ্রামের কৃষকগণ তাদের জমিতে পানি দেয়ার কারণে বাঁধের নীচের গর্তের দিকে দেবে যায় এবং স্থানে স্থানে ফাটল ধরেছে।
এ ঘটনায় রবিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনন্দনগর গ্রামের পূর্বপাশের বেরিবাঁধটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট বাঁধে বাঁশ পাইলিং ও বস্তা সেটিং প্রাক্কলনে না ধরার কারণে কাজের উপ সহকারী প্রকৌশলীকে দোষারোপ করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান—উদ—দৌলা, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর বলেন, আনন্দনগর গ্রামের পূর্বপাশের দেবে যাওয়া বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন। নির্মাণাধীন কাজটিতে তেমন ত্রুটি নেই। তবে বাঁধের নীচে পুরাতন মাটি দেবে যাওয়ায় বাঁধে ফাটল ধরেছে। জেলা প্রশাসক স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন, বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দ যা প্রয়োজন হয় তা দেয়া হবে। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসক স্যার উপজেলার মাটিয়ান হাওর, গুরমা বর্ধিতাংশের সকল ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন।

  • [১]