সু.খবর ডেস্ক
গত ৫০ বছরেও দেশের জনগণের প্রকৃত মুক্তি মেলেনি বলে মন্তব্য করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, শুধু স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। দেশে যত উন্নতি হচ্ছে, তত বৈষম্য বাড়ছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ব্রতী প্রাঙ্গণে শুক্রবার ‘২০ পেরিয়ে ব্রতী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন। ব্রতীর ২০ বছরের অর্জন ও প্রান্তজনের জীবনমান পরিবর্তনের কাহিনি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটি নূরজাহান মুরশিদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
অনুষ্ঠানের এই পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বর্তমান সরকারও তা পারেনি, তবে সরকার চেষ্টা করছে। দেশের বহু মানুষ এখনো দিন আনে, দিন খায়। ঘরে পরপর তিন দিনের খাবার আছে, দেশে এমন পরিবার এখনো ৬০ শতাংশ হবে না।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের ঘরে যেন ৪০০ থেকে ৫০০ দিনের খাবার থাকে সেই দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এখনো দীর্ঘপথ যাওয়ার আছে। আমরা পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান উন্নয়নের অন্তরালে রয়েছে আর্তনাদ, বেদনা। এই উন্নতিতে বৈষম্য বাড়ছে। এই করোনা মহামারিতেও ধনীরা আরও ধনী হয়েছে। সুযোগ বঞ্চিত ব্যক্তিদের উন্নতি হচ্ছে না।
বর্তমান সময়ে দেশের তরুণেরা সবচেয়ে বেশি হতাশ ও বিভ্রান্ত বলে মনে করেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণেরা বিপদের মধ্যে আছে। তাঁদের দেখলে মনে হয়, দেশ জয়ের পরে পরাজিত হয়ে গেছে। যে জয় ১৯৭১ সালে এসেছিল, তা ক্রমাগত জীবন থেকে দূরে সরে গেছে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সামাজিক পরিবর্তন দরকার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জনপ্রতিনিধিদের শাসন ও জবাবদিহি এবং সুযোগের সমতা এই আদর্শকে ধারণ করে জাগরণ হতে হবে। বর্তমানে জবাবদিহির অভাব ভয়ানক হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, দেশের ৪৯টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই জাতিগোষ্ঠীর লোকজনকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুরশিদ। তিনি বলেন, ব্রতী জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কথা ঢাকায় পৌঁছায় না। প্রান্তিকপর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। এসব পরিবর্তনকে বড় পরিসরে করতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো রওনক জাহান বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) সরকারের প্রতিযোগী নয়। এনজিওগুলো দুর্গম এলাকাতেও কাজ করছে। এনজিও এবং সুশীল সমাজকে সরকার কাজে লাগাতে পারে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বদল আনতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্রতী কাজ করছে।
সূত্র : প্রথমআলো