বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে গত মাসে (জুলাই মাসে)। এই জেলায় একবছর ৪ মাসে মারা গেছেন ৪৯ জন। এরমধ্যে কেবল জুলাই মাসেই মৃত্যু ঘটেছে ১৬ জনের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ রোগীই অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মারা গেছেন। উচ্চমাত্রায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেই এই জেলায় চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানান্তর করতে হয় সিলেটে। যারা মারা গেছেন, এদের বেশির ভাগই অক্সিজেনের জন্য স্থানান্তরিত রোগী। গেল বছরের ৮ মার্চে বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর প্রথম এই জেলায় মৃত্যু হয় দোয়ারাবাজারের ইটভাটা শ্রমিক আব্দুল সালাম (২৫)’এর। ওই শ্রমিক রাজধানীর উপকণ্ঠের একটি ইটভাটায় চাকুরি করতেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে ওই বছরের ২৬ মার্চ বাড়ি ফিরেন এবং ৭ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এরপর এই বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ জেলায় সরকারি হিসাবে করোনায় মারা গেছেন ৪৯ জন। এরমধ্যে কেবল জুলাই মাসেই মৃত্যু ঘটেছে ১৬ জনের।
এই ১৬ জুনের বেশিরভাগেই অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মারা গেছেন। অনেকে হাসপাতালেই গেছেন অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাবার পর।
সুনামগঞ্জ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু জাকের (৫২) শারিরিকভাবে শক্তিশালী মানুষ ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার সময় তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৮৫ শতাংশ। এই কারণে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় এবং ওখানেই একপর্যায়ে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে মারা যান তিনি। জুলাই মাসে মারা যাওয়া বেশিরভাগ রোগী একই কারণে মারা যান।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সুনামগঞ্জের ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা সদর হাসপাতাল মিলে নরমাল মাত্রায় ১৫০ জন রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব। সংক্রমণ বাড়ছে এই অবস্থায় এই জেলায় যেহেতু আইসিইউ নেই। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, সেইজন্য উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এজন্য রোগীগণ আগে থেকে সাবধানতা অবলম্বন করলে মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অতনু ভট্টাচার্য বললেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী বাড়িতে থাকুক বা হাসপাতালে থাকুক, এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘনত্ব কমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করা। সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকে।
রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব আর হৃদস্পন্দনের গতি পরিমাপ করা যায় যে যন্ত্রের মাধ্যমে, তার নাম পালস অক্সিমিটার।
পালস অক্সিমিটার দিয়ে sp02 মাপতে হবে। অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ শতাংশের নীচে হলে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অক্সিজেন দিতে হবে। যাদের পূর্বে COPD রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে ৮৮ শতাংশের নীচে হলে অক্সিজেন দিতে হবে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বললেন, সংক্রমণ বেড়েছে, কেউ কেউ বাড়িতে থেকেই অক্সিজেনের মাত্রা ৭০-৮০ শতাংশ নামার পর হাসপাতালে আসছেন। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বিবেচনা করে সিলেটে স্থানান্তর করা হচ্ছে। যেহেতু এখানে উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নাই, সিলেটে স্থানান্তর ছাড়া উপায় নেই। অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকা অবস্থায়ই হাসপাতালে আসলে ভাল হয়।