জেলার বিভিন্ন সড়কের হাল-হকিকত নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দেশব্যাপী চলমান বিশাল উন্নয়ন যজ্ঞের সাথে এরকম খবর বেমানান। বাস্তবতা হলো সারা দেশেই সড়ক যোগাযোগের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। নতুন নতুন সড়ক, ব্রিজ নির্মিত হচ্ছে। পুরাতনগুলো প্রশস্থ হচ্ছে। এর পরেও কিছু পুরাতন সড়ক বিশেষ করে যেগুলো মফস্বল উপজেলার সাথে সংযুক্ত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ খুব সীমিত বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। সুনামগঞ্জ থেকে দোয়ারাবাজার যাওয়ার একমাত্র সড়কের আমবাড়ি থেকে কাটাখালি ও কাটাখালি থেকে আজমপুর পর্যন্ত মাত্র কয়েক কিলোমিটার সড়কের অবস্থা এতোটাই ভয়ংকর যে শুধুমাত্র এই রাস্তার কারণেই অনেক দোয়ারাবাজার যেতে রাজি হন না। রাস্তা ভাল থাকলে জেলা সদর থেকে দোয়ারাবাজার পৌঁছাতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু এখন এই জায়গায় সময় লাগছে দেড় ঘণ্টা। প্রচুর ঝাঁকুনি ও ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ও চালকরা নিতান্ত বাধ্য হয়ে এই রাস্তায় চলাচল করেন। একজন ভুক্তভোগী যথার্থই বলেছেন, কোন গর্ভবর্তী মহিলা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে গাড়ির ঝাঁকুনিতে রাস্তায়ই তিনি সন্তান প্রসব করে ফেলবেন। রাস্তাটির এই ভয়ংকর অবস্থা নতুন নয়। গত দুই/তিন বছর যাবত রাস্তাটি একইরকম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফোরামে প্রায়সই দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেন। এই রাস্তার উপর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কার্যত রাস্তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। কাটাখালি থেকে আজমপুর পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার বিকল্প সড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না এক বছর ধরে। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদার ও তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশল দপ্তরের অবহেলার কারণেই দশ দিনের কাজটুকু এক বছরেও শেষ করা যাচ্ছে না। এদিকে মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে নতুন উপদ্রব হয়েছে, এখন দোয়ারাবাজারগামী সিএনজি যাত্রীদের আজমপুর ফেরিঘাটের পাঁচ শ’ গজ দূরে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে সামনের সড়ক সংস্কারের নামে। এই ৫ শ’ গজ রাস্তার কাজ শেষ হতে কত দিন লাগবে তাও অনুমান করতে পারছেন না যাতায়াতকারীরা। এ অবস্থায় পুরো রাস্তার (আমবাড়ি থেকে কাটাখালি হয়ে আজপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত) সংস্কার কাজ তরান্বিত করতে যাত্রীরা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। জেলা সদরের সাথে দ্য়োারাবাজার উপজেলা সদরের যোগাযোগ অবস্থা উন্নত করা বর্তমান উন্নয়নমুখী সরকারের তিন বছর বা ততোধিক সময় লেগে যাবে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা কেউই মানতে নারাজ। আমরা আশা করব বিষয়টি তড়িৎ দায়িত্বশীলদের নজর কাড়তে সক্ষম হবে এবং দোয়ারাবাজারগামী যাত্রীদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে অচিরেই।
অন্যদিকে পত্রিকায় ধর্মপাশা উপজেলা সদরে যানবাহনের কোন স্ট্যান্ড না থাকায় পুরো শহর জুরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে সেটির নিরসনেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ধর্মপাশায় স্ট্যান্ড করার মতো কোন জায়গা না থাকার যে কথা বলছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। যানবাহনের স্ট্যান্ড নির্মাণ করতে সরকারি খাস জায়গার ব্যবস্থা না করতে পারলে হয় স্থানীয় উদ্যোগে জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে নয় সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। সবচাইতে বড় কথা হলো, একটি শহরকে কোন অবস্থাতেই বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার ঘেরাটোপে আবদ্ধ করে রাখা সংগত হবে না। অন্য আরেকটি সংবাদে বর্ণিত জগন্নাথপুর পৌর শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা কাটিয়ে উঠার লক্ষে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।