স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন বর্তমান স্থানেই স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. লুৎফুর রহমান এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সম্প্রতি চিঠি দিয়ে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়ে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা বেগম নূর জাহান (কাকন বিবি) বীরপ্রতীক’এর আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প (ষষ্ঠ)’এর আওতায় দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনদের মধ্যে দুটি মত দেখা দেয়।
একপক্ষ দাবি করেন লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বাংলাবাজারে ভূমি অফিসের নতুন ভবন হলে এলাকাবাসী বেশি উপকৃত হবে। আরেকপক্ষ দাবী করেন শুরু থেকেই লক্ষীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস আছে লক্ষীপুর গ্রামে। কারো কোন অসুবিধাও হচ্ছে না। এখন নতুন এলাকায় ভূমি অফিস সরানো হলে অনেকেই সমস্যায় পড়বে।
লক্ষীপুরের
বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি বীরপ্রতীকও গত ১৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের নিকট লক্ষীপুরেই বর্তমান ভূমি অফিসের জমিতে অফিসের ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেন।
এই অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকেও সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থান যাচাই-বাছাই হয়। স্থান যাচাই-বাছাই শেষে পুরাতন রেকর্ডপত্র বিবেচনায় এনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুর রহমান (রাজস্ব) সম্প্রতি লক্ষীপুরেই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘লক্ষীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ নিয়ে দুটি মত ছিল। একপক্ষ বলেছিলেন বাংলাবাজারে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের পাশে যেন ভূমি অফিস স্থানান্তর হয় এবং ওখানেই যেন নতুন ভূমি অফিস ভবন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কাকন বিবি বীরপ্রতীকও একটি আবেদন করেন। তিনি লক্ষীপুরের বর্তমান স্থানেই ভূমি অফিস রাখার অনুরোধ জানান। এই অবস্থায় পুরোনো কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে ভূমি অফিসের স্থান নির্ধারণ বিষয়ে ১৯৯০ সালেও একটি সরকারী সিদ্ধান্তে তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বর্তমান ভূমি অফিসের স্থানটি যথাযথ উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই পূর্বের সরকারী সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কাকন বিবির আবেদনকেও আমলে নিয়ে লক্ষীপুরেই ভূমি অফিস স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি পাঠানো হয়েছে’।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর সিদ্দিক বলেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিস করার জন্য বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি জমি’র সয়েল টেস্ট করা হয়েছিল। এখন যেহেতু জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লক্ষীপুরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাহলে নতুন করে জমির সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে’।