দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়ী ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দিনব্যাপি সুরমা ইউনিয়ন ছিল উত্তপ্ত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ নিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, সুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ ও একই ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র সাবেক সেনা সদস্য হারুনুর রশীদ মোবাইলে ফোনে রবিবার রাত ১২ টার পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উতপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ সোমবার সকালে হারুনের বাড়ির পাশে টিলাগাঁও রাবারড্যাম এলাকায় যাবার পথে হারুনের ছেলে ও ভাতিজার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় এক পর্যায় চেয়ারম্যান মামুনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে তারা। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান দোয়ারাবাজার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই চেয়ারম্যানের পক্ষের ২৫-৩০ জন প্রতিপক্ষ হারুনুর রশিদের বাড়ীঘরে হামলা চালায়। এঘটনার পরেই দোয়ারাবাজার থানার এস আই ফিরুজ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘চেয়ারম্যানে মামুনুর রশিদ আমার মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলেছেন আমাকে পিটাইতে পিটাইতে টিলাগাঁও থেকে ধরে থানায় নিয়া যাবে। সোমবার সকালে চেয়ারম্যান আমার ছেলে ও ভাতিজাকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করেছে। পরে আবার দুপুরে ২৫-৩০ লোকের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে থাকা মহিলাদেরকে মারধর সহ বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ বলেন, হারুন এক মোটর সাইকেল ড্রাইভারকে মারধর করার হুমকি দিয়েছিল। আমি তাকে বিষয়টি জানার জন্য রাতে ফোন দিলে সে আমার সাথে বাজে আচরণ করে। এরই জেরে সকালে এ ব্যাপারটি সুরাহা করতে টিলাগাঁও এলাকায় যাওয়ার পথে তার আত্মীয় স্বজনরা আমার উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। এক পর্যায়ে আমাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে তারা।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।