- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারাবাজারে ৯ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ আগামীকাল

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে একযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে সবকটি ইউনিয়নে।
উপজেলার ৯ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১ জন প্রার্থী। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০৮ প্রার্থী এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলার ১নং বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হবে। সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন আ.লীগের বিদ্রোহী এম আবুল হোসেন ও বর্তমান চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার। দুইজনই আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থী। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মানিক মিয়া।
অপরিদকে এই ইউনিয়নে ভোটের মাঠে লড়ছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবু সালেহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত ও আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী ইবরাহীম খলিল।
২নং নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হবে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সামছুল হক নমু, আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ এবং আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আমিন। এই ইউনিয়নে ভোটের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আরও দুই বিদ্রোহী ফজলুর রহমান ও হাজী স্বপন মিয়া।
৩নং দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে। এবার আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল হামিদ’র সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) এমএ বারী। ওই ইউনিয়নে ভোটের মাঠে রয়েছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) মামুন মিয়া। তবে সদর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থিত দুই প্রার্থী থাকায় নানা কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী আবদুল হামিদ।
৪নং মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মূলত চতুর্মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) ইজ্জত আলী, আওয়াম ীলীগের মনোনীত অসিত কুমার দাস, বর্তমান চেয়ারম্যান (বিএনপি নেতা) আবু হেনা আজিজ ও (বিএনপি নেতা) আবদুল খালিকের মধ্যে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই চারজনই ভোটের আলোচনায় রয়েছেন সমানে সমান। তবে টেক্কা দিয়ে এবার চমক দেখাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) ইজ্জত আলী। ওই ইউনিয়নে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন জামাল উদ্দিন আহমদ, দিলীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, শাহাব উদ্দিন।
৫নং পা-ারাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও চতুর্মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল ওয়াহিদ, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (বিএনপি নেতা) ওলিউর রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) ফারুক আহমদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (খেলাফত মজলিস নেতা) মইনুল হকের মধ্যে জমজমাট লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ইউনিয়নে ভোটের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হাবিবুর রহমান, মাস্টার আসকর আলী।
৬নং দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। ভোটের মাঠে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর মিয়া, শামীমুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার মিয়া আনু। ওই ইউনিয়নে ভোটের মাঠে আরও রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।
৭নং লক্ষ¥ীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। বর্তমান চেয়ারম্যান আমীরুল হক ও জহিরুল ইসলাম’র মধ্যে কঠিন লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল কাদির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান স্বপন।
৮নং বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মিলন খান ও বিএনপির সমর্থিত আরিফুর ইসলাম জুয়েল এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে।
৯নং সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এমএ হালিম বীরপ্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি নেতা) হারুন অর রশীদ’র মধ্যে জমজমাট লড়াই হবে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৮২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এরমধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ৮৫ হাজার ৫৪০ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছে ১ জন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য এই ১৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ৩৩ টি ভোট কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও ভোট বাক্স ছিনতাইর আশংকা রয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

  • [১]