- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের কাজে নিম্নমান ও নৈনগাঁওবাসীদের প্রতিবাদ

দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়ক সংস্কার কাজে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা। এই বিশাল বরাদ্দের কাজের ঠিকাদার নিয়োজিত হয়েছিল ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ৮ কিলোমিটার রাস্তার কাজ করার পর তারা যখন দোয়ারাবাজার উপজেলার নিকটবর্তী নৈনগাঁও এলাকায় কাজ করছিলেন তখন এলাকাবাসী কর্তৃক ঠিকাদারের লোকজন বাধাপ্রাপ্ত হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ কাজের সব ক্ষেত্রেই নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ প্রাক্কলন মোতাবেক কিছুই করা হচ্ছে না । এলাকার লোকজন বিষয়টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানান। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাস্তার কাজ সরেজমিন দেখে কাজের নিম্নমান বুঝতে পেরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে জানান। নির্বাহী প্রকৌশলী তৎক্ষণাৎ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এ বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর মঙ্গলবার সকালে কর্মএলাকা পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাঁরা রাস্তার কাজ দেখে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কাজের নি¤œমানের কথা স্বীকার করেছেন। এই রাস্তার কাজ ও এর মান নিয়ে আজ যে প্রশ্ন উঠল সেটি আমাদের উন্নয়ন কাজের অতি স্বাভাবিক চিত্র। বরং বলা ভাল, এক্ষেত্রে প্রায় শেষ দিকে প্রশ্ন উঠেছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশ্নহীন অবস্থায় শেষ হয়ে যায়। এই রাস্তাটিও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রায় শেষ করে এনেছিল। ১১ কিলোমিটারের কাজের মধ্যে ৮ কিলোমিটারে তারা কোন বাধার সন্মুখীন হয় নি। যথারীতি নিজেদের মান মত কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। কিন্তু শেষ ৩ কিলোমিটারে নৈনগাঁওয়ের মানুষের কাছে ধরা খেয়ে গেলেন তারা। এজন্য নৈনগাঁওয়ের প্রতিবাদী সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই ঠিকাদারের বিশেষ বিরাগভাজন ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তবে এই প্রতিবাদী মানুষরাই মূলত মেরুদ- সোজা রাখা মানুষ। একটি উন্নয়ন কাজে সীমাহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উচ্চকিত হওয়ায় তারা সকলের নিকট ধন্যবাদার্হ হয়েছেন আমাদের বিবেচনায়।
আমাদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। প্রাক্কলন মোতাবেক নির্মাণ কাজে মানসম্পন্ন জিনিসপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা বা কাজের মেজারমেন্ট যথাযথ পরিমাণে বজায় রাখা হচ্ছে কিনা এগুলো দেখভালের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাইট ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের এই কাজের জন্যও নিশ্চয়ই এক বা একাধিক এমন প্রকৌশলী বা অন্য কোন পদবির কর্মচারী ছিলেন। তো এতদিন এই সরকারি কর্মচারিরা কী করেছিলেন? কোন ধরনের কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই নৈনগাঁওয়ের মানুষ যেখানে কাজের নি¤œ মানের বিষয়টি বুঝতে পারলেন সেখানে ওই কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ওই সরকারি কর্মচারিরা কেন বিষয়টি বুঝতে পারলেন না? এই বুঝতে না পারার পিছনে যে সরকারি অধিকারিকদের ঠিকাদারের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়ে অধিকতর মনোযোগী থাকার প্রমাণ মিলে সেটিই দুর্নীতির মূল কারণ। আজ এই রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পুরো রাস্তায় যথাযথ মান বজায় রেখে পুনরায় কাজটি ঠিকাদারকে দিয়ে করিয়ে নিতে বাধ্য করা উচিৎ সরকারের। আর এই রাস্তার কাজ দেখভালের জন্য যেসব ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মচারি নিয়োজিত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ঠিকাদারের স্বার্থ রক্ষার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।  

  • [১]