- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারাবাজার ‘যার হাওয়া বেশি দেখবো তার পক্ষে থাকবো’

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় ৯ প্রার্থীসহ ৩০ দলীয় নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন ভোটাররা। অর্থাৎ দলীয় প্রতীকে ৯ ইউনিয়নে আছেন ৯ জন, দলীয় বিদ্রোহী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ২১ জন। বিদ্রোহীরা প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করলে এই উপজেলার ৯ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের ৯ জন ছাড়াও আরও ২১ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মাঠে থাকবেন।
এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকরা কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের সাবেক এক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বললেন,‘আমরারতো ৭ জন প্রার্থী, যে পাল্লা ভারী দেখমু, হি-পাল্লাত ঔথাকমু, ই-৭ জনের হকলেই জাতীয় নির্বাচনও আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষে আছলা, ভবিষ্যতেও থাকবা’। দোয়ারাবাজারে কেবল সাবেক এই ইউপি সদস্য নয় এমন মন্তব্য করেছেন আরো অনেকের। অর্থাৎ তাদের কথা হলো- ‘পালে হাওয়া যার বেশি দেখবো, আমরা তার পক্ষে থাকবো’।
সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল খালিক। আব্দুল খালিকের ছোট ভাই আসিক মিয়া জানিয়েছেন নির্বাচনের সরে দাঁড়ানোর কোন পথ নেই তাদের।
মান্নারগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বরুণ চন্দ্র দাস, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল হান্নান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শহীদুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শামসুদ্দিন।
সুরমা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত খন্দকার মামুনুর রশিদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হুমায়ুন রশিদ।
বাংলাবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জসিম আহমদ রানা।
নরসিংপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের  আব্দুর রশিদ তালুকদার, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. নুরুল আমিন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কামরুজ্জামান ভূইয়া, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এ.কে.এম আইয়ুবুর রহমানী, আওয়ামী বিদ্রোহী হাবিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শাখাওয়াত হোসেন।
দোহালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আনোয়ার মিয়া আনু, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আব্দুল জলিল, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দেওয়ান হুমায়ুন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এমরাজ তালুকদার, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাজী মাহবুবুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শামীমুল ইসলাম শামীম এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রাশেন্দ্র দাস।
পান্ডারগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হুমায়ুন কবীর, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আমজাদ হোসেন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোহাম্মদ আলী।
লক্ষীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আমিরুল হক।
বোগলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মিলন খাঁন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আহমদ আলী আপন।
এই ৯ ইউনিয়নের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নির্বাচন করার জন্যই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না এরা।
দোয়ারাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন,‘একেক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ২-৩ জন প্রার্থী, আমরা দেখবো দলে কার ত্যাগ বেশি এবং প্রার্থী কোন এলাকার বাসিন্দা, আমার মতো অনেক ভোটারই এই বিষয় দেখবেন’।
উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘এবার ইউপি নির্বাচনেও আগে দলের কী-না বিবেচনা করতে হবে, তবে স্থানীয় নির্বাচনে আঞ্চলিকতা, আত্মীয়তাসহ নানা বিষয় কাজ করে’।
উপজেলা আওয়ামী লীগের অপরাংশের আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ তারেক বলেন,‘দলের বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবে না বলেই বিশ্বাস করি, যেহেতু দলীয় নির্বাচন দলের ভোটাররা দলের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, দল যারা করেন ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও প্রতীকের বাইরে যাবেন না’।

  • [১]