- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
গত ৪ দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দোয়ারাবাজারের সদরের সাথে সবকটা যোগাযোগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় শতাদিক গ্রামের মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকয়টা স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায় পানিবন্দি মানুষ ও গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মোরগ নিয়ে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার খাদ্যগুদাম। গুদামের উঠানে প্রায় সাড়ে তিন ফুট থেকে চার ফুট পরিমান পানি রয়েছে। গুদাম এরিয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।
এদিকে পাহাড়ী ঢলে উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা ইউনিয়নের যোগাযোগের সড়কগুলো ভেঙ্গে গেছে। উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে শতভাগ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দোয়ারা সদর ও সুরমা ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম। লক্ষিপুর ইউনিয়ন, বোগলাবাজার ইউনিয়ন, নরসিংপুর ইউনিয়নে আরো প্রায় ৫০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সব মিলে প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
টানা বর্ষণে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। তাছাড়া ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদী ও হাওর-বাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার সকল রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে করে উপজেলার সাথে ৯ টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক লোকজন।
এদিকে পাহাড় থেকে নেমে আশা খাসীয়ামারা, চিলাই নদী, চেলা নদী ও চোট বড় বেশ কয়েকটা নদী নালার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দোয়ারাবাজার, খাসীয়ামারার বড় ভাঙ্গা গত পাঁচ বছর ধরে খোলা থাকার কারণ প্রতি বছর মহব্বতপুর বাজারের ব্যাবসায়ীরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার প্রায় শতাদিক ব্যবসায়ীর পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে।
সদর ইউনিয়নের রাখাল কান্দি গ্রামের পুকুরে মাছ চাষী সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, অধিক বৃষ্টি আর হটাৎ করে পাহাড়ী ঢল আসায় পুকুরের অনেক মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতে মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পরেছে। দুইটি ইউনিয়নের শতভাগ গ্রামের মানুষজন পানি বন্ধি হয়ে আছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখারজন্য তিনটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা রয়েছে। বোগলা রুসমত আলী রামসুন্দর স্কুল ও কলেজ আশ্রয় কেন্দের জন্য প্রস্তত রাখা হয়েছে।

  • [১]