- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ, ৮৩ কোটি টাকার কাজ যেন অর্থবহ হয়

অন্তত তিন দশক ধরে দোয়ারাবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ভাঙন ঠেকানোর কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই সময়ে ভাঙন তো ঠেকানো যায়ইনি বরং কয়েক শ’ বাড়িঘর, দোকানপাট, মসজিদ, স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বহু মানুষ ভিটেহীন হয়েছে নদী ভাঙনের ফলে। অন্যদিকে ভাঙন ঠেকাতে জলের মত টাকা খরচ হয়েছে সরকারি তহবিল থেকে। কার্যত জলের বেগের মত ভেসে আসা টাকা জলেই ঢালা হয়েছে, কিন্তু ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। এখনও নদী ভাঙন প্রতিরোধে নয়টি প্রকল্প চলমান আছে। বরাদ্দ ৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু কাজে গতি নেই। ঠিকাদাররা প্রকল্প মেয়াদ ২০২৩ সনের কথা বলছেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বলছেন এখানে একদিন কাজ হলে তিন দিন বন্ধ থাকে। কাজ শেষ কবে হবে বলা কঠিন। আর কী পরিমাণ কাজ করে কী পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে-হবে তা পাবলিকের বুঝা দায়। কাজের এরকম অবস্থা দেখে ওই উপজেলার জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভাঙন আটকানির চাইতে লুটপাটের ধান্দা বেশি’। তাঁর এই ক্ষোভ সঙ্গত। তিনি দেখে দেখে বুঝেছেন এখানে নদীর ভাঙন ঠেকাতে যে টাকা ব্যয় হয় তা যদি কাঁচা পয়সার রূপান্তর করে বস্তায় ভরে অকুস্থলে ফেলে দেয়া হত তাহলে ভাঙন প্রবনতার মুখে তালা লাগানো গেলেও যেতে পারত হয়ত।
নদী ভাঙন বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি প্রাকৃতিক প্রবণতা। পদ্মা, মেঘনা বা যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে এই সমস্যা ভয়াবহ হলেও আমাদের অঞ্চলেও এই ভাঙন প্রবণতা আছে যা জগন্নাথপুর, দিরাই বা দোয়ারাবাজারে দৃশ্যমান। এমনকি জেলা সদরের একেবারে নাকের ডগার লঞ্চঘাট এলাকায়ও এরকম ভাঙনের চিহ্ন দৃশ্যমান। নদীকে স্বাভাবিকভাবে চলতে না দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া; প্রভৃতি কারণে এই ভাঙন ঘটে থাকে। কীভাবে নদী ভাঙন ঠেকাতে হয় তা আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা খুব ভাল জানেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে যখন ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয় তখন এসব বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের মাহাত্ম্য বুঝা যায় না। আর এই জায়গায়ই বীর মুক্তিযোদ্ধা সখেদে যা বলেছেন তার যথার্থতা খোঁজে পাওয়া যায়। মূলত নদী ভাঙন প্রতিরোধ করতে টাকার শ্রাদ্ধ যথেষ্টই করা হয়। এই টাকায় ঠিকাদার, ভাগীদার আরও কতজনের ফাটা কপাল জোড়া লাগে। কিন্তু নদী পাড়ের মানুষের লাভ হয় না। তারা প্রতিবছরই এর আগ্রাসনের শিকার হয়ে জমি ও বাড়ি হারিয়ে চলেছেন।
দোয়ারাবাজরের মাছিমপুর, মুরাদপুর, মাঝেরগাঁও প্রভৃতি গ্রামের লোকজন সুরমার ভাঙনের কবলে পড়ে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছেন গত তিন দশক ধরে। এই সময়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ভুসম্পদাদি ও অবকাঠামোর ক্ষতি টাকার অংকে হিসাব করা হয় না। হলে দেখা যেত এই ক্ষতির পরিমাণ অনেক। খোদ উপজেলা সদরের প্রশাসনিক এলাকাটিও ভাঙনের ঝুঁকির সামনে রয়েছে। সুতরাং বিষয়টির গুরুত্ব বলে বুঝানোর নয়। গণমাধ্যমে এই বিষয়ে বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়ে চলেছে। গণমাধ্যম এই বিষয়ে সোচ্চার থাকে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের তাগিদ থেকে। একই সাথে সরকারি টাকার যথাযথ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাটাও আরেক অপরিহার্য লক্ষ বটে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নদী ভাঙন কাজে গতিশীলতা আনতে আরও তৎপর হতে হবে। ঢিলেমির সুযোগে কষ্টার্জিত করের টাকা কোন উপযোগিতা তৈরি না করে জলের ¯্রােতের সাথে ভেসে যাবে এমন অবস্থা কারও কাছে প্রত্যাশিত নয়। তাই চলমান নয়টি প্রকল্পের ৮৩ কোটি টাকার কাজটি যাতে অর্থবহ ও ভাঙন প্রতিরোধী হয়ে উঠে তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

  • [১]