দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাচনী সহিংসতায় তিন স্থানে আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন ও একটি দোকানঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনের দু’দিন পেরিয়ে যেতে না যেতেই রবিবার রাত, সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক সংঘর্ষ হয়।
মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুরে ও একই ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে ইউপি সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে এবং বোগলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে বিজয়ী ইউপি সদস্য মিনার উদ্দিন ও পরাজিত প্রার্থী সাব্বির আহমদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন, সুনাবান বেগম (৪৫), রহিমা বেগম (৪০), হনোফা (১১),নাছিমা বেগম (১৯), মিনা বেগম, বাচিত মিয়া (৩৫),আবুল মিয়া (৪৫), জাকির হোসেন (২০), সহিবুর রহমান (২৪), আব্দুল হামিদ (৩৫),সুনাফর আলী (৫৫),ফেরদৌস মিয়া (৩৫), সাদ্দাম হোসেন(২০),খুশিদ আলীসহ ১৪ জন।
একই ইউনিয়নের রবিবারের কথাকাটির জের ধরে আজমপুর গ্রামে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ফরহাদ উদ্দিনের ও বিজয়ী ইউপি সদস্য আজাদ মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে রাতের আঁধারে বিজয়ী ইউপি সদস্য আজাদ মিয়ার বোন জামাই জামাল উদ্দিনের দোকান ঘরে আগুনে পুড়িয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি করা হয়েছে বলে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় বোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম জুয়েল ও বিদ্রোহী প্রার্থী আহাম্মদ আলী আপনের লোকজনের মধ্যে বোগলা বাজারে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু কিছু সময় পরেই বিএনপির সমর্থকরা আহাম্মদ আলীর সমর্থক তিন জনের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত তিনজনকে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বোগলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের রাতের সংঘর্ষ থামাতে বোগলা বাজারের বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ও দোয়ারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
মান্নারগাঁও ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বি পরাজিত প্রার্থী ফরহাদ ও তার লোকজন ইর্ষান্বিত হয়ে রাতের আঁধারে আমার বোন জামাইয়ের দোকান ঘরে আগুন ধরিয়ে দোকানের সব পুড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি তার বাড়ির পাশ দিয়ে বাজারে যাবার পথে আমার কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা করছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ বলেন,‘নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’