- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে পরীক্ষা দিতে পারেনি ১৩ শিক্ষার্থী

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামে ‘সিদ্দিকীয়া আকবর (রা.) লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানের ১৩ শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল।
এদিকে গত ৪দিন ধরে মাদ্রাসা সুপার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে গোটা এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
জানা যায়, ১৯৯৪ সালে দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের ও আশপাশের ১০টি গ্রামের লোকজনের সার্বিক সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। চলতি বছরে এই মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সময় মতো তাদের রেজিষ্ট্রেশন, প্রবেশপত্র দিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পেরে চরম হতাশায় পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমরা সময় মতো ফিসের টাকা জমা দিয়েছি মাদ্রাসার সুপারের নিকট।
শিক্ষার্থী মোছাম্মদ. সামিয়ারা বেগম বলেন, রেজিষ্ট্রেশনের সময় ৫ শত টাকা এবং ফরম ফিলাপের জন্য ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছি আমরা। আনন্দিত ছিলাম এবারের পরীক্ষায় পাশ করে কলেজে লেখাপড়া করব, আামাদের সেই আশা পূরণ হলো না।
আরেক শিক্ষার্থী সুলতানা বেগম বলেন, আমদের মাদ্রাসার সুপার সাহেব পরীক্ষার ৪/৫ দিন আগে আমাদের বিদায়ী অনুষ্ঠানও করেছেন। সেই সময় বলেছেন, পরীক্ষার একদিন আগে প্রবেশপত্র দিবেন। আমাদের নিয়ে এই তামাশা না করলেও পারতেন তিনি। আমাদের দুইটি বছর নষ্ট করে তিনি এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মুকিতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। গত ৪দিন ধরে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী-সুপার মাওলানা জায়েদ আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের এবার দাখিল পরীক্ষা দিতে না পারার জন্য মাদ্রাসা সুপার সাহেব দায়ী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ বলেন, মাদ্রাসা সুপার দাখিল পরীক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন না করিয়ে তাদের রেজিষ্ট্রেশনের বিষয়টি গোপন করে আবার পরীক্ষার পূর্বে তাদের বিদায়ী সংবর্ধনাও দিয়েছেন তিনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তপূর্বক মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • [১]