- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দোয়ারায় হয়নি জরুরি বাঁধ হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কাজ

বিশেষ প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার সীমান্তের খাসিয়ামারা নদীর বাম পাড়ের বাঁধের ভাঙনে হচ্ছে না বাঁধের কাজ, অথচ এই ভাঙনের কিছু উপরে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ দিয়ে এবং মংলার বাঁধ নামে আরেকটি স্থানে বাঁধ দেবার নামে ৫৫ লাখ টাকার অপচয় ঘটানো হচ্ছে।
জানা যায়, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের অসহনীয় যন্ত্রণা ৫ বছর ধরে সইছেন দোয়ারাবাজার সীমান্তের শতাধিক গ্রামের মানুষ। বর্ষায় পাহাড়ী ঢল নামলে বাড়ী-ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়, একনাগারে সপ্তাহ্ থেকে ১৫ দিন জলাবদ্ধতায় ভোগেন লক্ষাধিক মানুষ। যোগাযোগ সড়কেও থাকে হাঁটু সমান পানি। গবাদি পশু থেকে শুরু করে গৃহপালিত পশু নিয়েও বেকায়দায় পড়েন এলাকাবাসী। সীমান্ত এলাকার ছোট ছোট হাওরে এ কারণে চাষাবাদ হয় না। গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধে কাজ না করেই এর কিছুটা উপরে বক্তারপুর স্লুইসগেট থেকে মীরপুর মসজিদ হয়ে রাজু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত বাঁধের কাজ করার জন্য দুটি পিআইসি কে (৩৩ নম্বর ও ৩৪ নম্বর পিআইসি) ২৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি খাসিয়ামারা’র ভাঙনে কাজ না করে এখন যে বাঁধের কাজ করা
হচ্ছে, এটি মানুষের বা হাওরের ফসলের কোনো কাজে আসবে না।
খাসিয়ামারা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাজুদ আলী বলেন,‘খাসিয়ামারার বাম তীরের ভাঙন অংশে বাঁধ না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে আছে, ফসল হচ্ছে না কয়েক বছর ধরেই। এই অংশে বাঁধ না দিয়ে এর উপরের অংশে বাঁধ কার স্বার্থে হচ্ছে, জানি না আমরা। এই বাঁধে কেবল টাকার অপচয় হবে, মানুষের কোনো কাজে আসবে না।’
খাসিয়ামারা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আনফর আলী বলেন, মানুষের প্রয়োজনীয় যেটি সেখানে কাজ হচ্ছে না। আর অপ্রয়োজনীয় বাঁধ করে টাকার অপচয় করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর বিভাগ-২)’এর নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানালেন, খাসিয়ামারা’র বাম তীরের রাবার ড্যামের পাশের ভাঙন দেখে আমারও মনে হয়েছে, ওখানে বাঁধ’এর জরুরি প্রয়োজন, ওখানে বাঁধ দিয়ে এলজিইডি’র রাবারড্যাম ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সতর্ক রাখতে হবে। যখন প্রয়োজন পানি ছাড়তে হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ও ওখানে বাঁধ দেবার জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার জন্য বলেছি।
এই উপজেলার নাইন্দার হাওরে মংলার বাঁধ নামে আরেকটি বাঁধ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে (৫ ও ৭ নম্বর পিআইসি)। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওখানে দেড় লাখ টাকার ধানও হবে না। ৩০-৩৫ কেয়ার জমি আছে বাঁধের ভেতর। এভাবে অর্থের অপচয় কেন হচ্ছে, এই প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও।
জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির অভিযোগ নিস্পত্তিকারী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, খাসিয়ামারা’র বামতীরের ভাঙন অংশ খোলা রেখে উপরের অংশে কেন বাঁধ হচ্ছে এবং মংলার বাঁধ নামে আরেকটি অংশে কেনইবা অর্থের অপচয় করা হচ্ছে, এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দেবার জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়নের কারিগরি কমিটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব পাউবো’র দোয়ারাবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শমশের আলী জানালেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, খাসিয়ামারা নদীর রাবারড্যামের বাম পাশের ভাঙনে বাঁধের দাবী আছে। আবার ভেতরে যেখানে বাঁধ হচ্ছে, সেখানে এর আগেও বাঁধ হয়েছে। নাইন্দার হাওরের মংলার বাঁধটি দেখে আমারও খারাপ লেগেছে। ওখানে বাঁধের ভেতরে বাঁধ হচ্ছে, অর্থাৎ দুতরফা বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বাঁধে (৫ নম্বর পিআইস) সামান্য পরিমাণে কাজ হবার পর, আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ১৮ লাখ টাকার কাজ যেটি ( ৭ নম্বর পিআইসি) সেটি’র কাজ অনেক হয়ে গেছে। এই বিষয়টি উপজেলা কমিটিতে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই বাঁধটিও না হলে চলতো।

  • [১]