- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে কষ্টে আছে মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
শহরের নবীনগর এলাকার অটো রিকশা চালক ময়না মিয়া (৬০) সাত সন্তানের জনক। বড় দুই ছেলে বিয়ে করে পৃথক সংসার করেছে। সংসারে রয়েছে ছোট দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। শহরের আলফাত স্কয়ারের গৌরাঙ্গ ট্রেডার্স থেকে বাজার করে বের হচ্ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, সারাদিনের ৪০০ টাকা রুজি করেছি। পেঁয়াজ, রসুন, সয়াবিন তেল, আলু কিনেছি। সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তাই কম কম করে সব কিনেছি। তিনি বলেন, একা যা রুজি করেন তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই তার স্ত্রী দিনমজুরের কাজ করেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসপত্রের দামই যখন বাড়তি তখন ময়না মিয়ার মতো মানুষেরা এভাবেই সামলাচ্ছেন তাঁদের পরিবার। কাঁচাবাজার থেকে একটি পরিবারে যা যা কিনতে হয়, তার প্রায় সবকিছুর দামই আরেক দফা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির তালিকায় ডাল, তেল, চিনি, আটা আছে। তেমনি রয়েছে সবজি, ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর দাম। বাজারে মাছ ও মাংসের দামও বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সেসব সীমিত আয়ের মানুষের ওপর নতুন আঘাত। বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা পরিবহন সেক্টরে ভাড়া বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন পণ্যের ওপর।
বৈঠাখালি এলাকার বালু পাথর ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বললেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় হিসেব মিলাতে পারছি না। আজকে ওয়েজখালি বাজার থেকে এক কেজি শুকনো মরিচ কিনে এনেছি ৪০০ টাকায়। অথচ কিছুদিন আগে ৩০০ টাকা করে কিনেছি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
মল্লিকপুর এলাকার আফাজ উদ্দিন বলেন, বাজারে সবতার দাম বাড়তি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। একটা কিনলে আরেকটা বাকি থাকে।
সরজমিনে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জেল রোড এলাকায় ঘুরে জানা যায়, খোলা আটা ও ময়দা প্রতি কেজিতে ৩ টাকা, সয়াবিন লিটার প্রতি ৫ টাকা, চিনি কেজি প্রতি ৫ টাকা, মোটা মশুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা, দেশি রসুন ১০ টাকা, ব্রয়লার মুরগীর দাম কেজিতে ১৩ টাকা বেড়েছে।
জগন্নাথ বাড়ী রোডের বিসমিল্লাহ ডিমের আড়তদার মেহেদী হাসান বললেন, এক সপ্তাহ আগে মুরগীর ডিম ছিল প্রতি ক্যারেট (৩০ টি) ২৪০ টাকা, এ সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ৩৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হালি মুরগির ডিম ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাঁসের ডিমও একই ভাবে প্রতি হালিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে।
জেল রোড এলাকায় ব্রয়লার মুরগী ব্যবসায়ী আমির হোসেন বললেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী বিক্রি করেছি ১৫০ টাকা করে। এ সপ্তাহে ২০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে।
জেল রোড এলাকায় সবিজ বিক্রেতা মো. দিলোয়ার হোসেন বললেন, আলু বাদে সব সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। এর মধ্যে টমেটো, শশা এবং কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে টমেটো প্রতি কেজি ছিল ৭০ টাকা, তা এখন ১০০-১৩০ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। শশা এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ছিল ৪০-৫০ টাকা, যা এখন হয়েছে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ ছিল ১৮০ টাকা প্রতি কেজি, যা এখন ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।
শহরের মল্লিকপুর এলাকায় মাজহারুল স্টোর এর মালিক মাজহারুল ইসলাম বললেন, এক সপ্তাহ ব্যবধানে সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে যে সয়াবিন বিক্রি করছি ১৯০ টাকা, তা এখন ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আগে ছিল ৩০ টাকা কেজি, এখন ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। দেশি রসুন প্রতি কেজি বিক্রি করতাম ৫০ টাকা দরে, এ সপ্তাহে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি করছি ৩০০-৩৫০ টাকা দরে। এ সপ্তাহে তা বেড়ে ৩৫০-৪০০ টাকা হয়েছে। চিনি প্রতি কেজি ছিল ৮০ টাকা, এখন বেড়ে ৯০ টাকা হয়েছে। মশুর ডাল বিক্রি হত ১০০ টাকা প্রতি কেজি। এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা করে।

  • [১]